মত-বিশ্লেষণ

ঝরে পড়ার পেছনে সামাজিক রীতিরও ভূমিকা রয়েছে

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা উপজেলাগুলোয় ৪৫ শতাংশ শিশুই স্কুলের বাইরে রয়েছে। কর্মজীবী শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু ও দুর্যোগকবলিত প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা প্রায়ই শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার পেছনে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি ক্ষতিকর সামাজিক রীতিনীতিরও ভূমিকা রয়েছে। প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে একজন শিক্ষার বাইরে চলে যায় মূলত বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের কারণে। শহরের ছেলেমেয়েদেরই স্কুলে ভর্তির হার বেশি হলেও লেখাপড়ার বাইরে থাকা ছয় থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ঢাকা সিটি করপোরেশনের মধ্যেই খুব বেশি। এটিই বাংলাদেশের রাজধানীতে শিশুশ্রমের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।

নিরাপত্তার ঘাটতি ও জনসমাগম স্থলে (পাবলিক প্লেস) যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের ব্যাপকতার কারণেও মেয়েরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। মেয়ে ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো ও পানির ব্যবস্থা এবং ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা মেনে চলার সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল থাকায় তা মেয়েদের শ্রেণিকক্ষে পারফরম্যান্স ও উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

ইউনিসেফ মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা, বাদ পড়া কমানো ও উত্তরণের হার বাড়াতে কাজ করছে। সব পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে শিক্ষা আইন পাস করার লক্ষ্যে কাজ করছে ইউনিসেফ। প্রস্তাবিত এই আইনটি বাস্তবায়িত হলে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুদের ভর্তি হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। প্রাথমিক শিক্ষা বর্তমানের পঞ্চম শ্রেণি থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত যাতে নিয়ে যাওয়া হয়, সে ব্যবস্থার জন্যও চেষ্টা চালাচ্ছে ইউনিসেফ। প্রাথমিক শিক্ষার সীমা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গেলে প্রান্তিক শিশুরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।

অবস্থার পরিবর্তনে বিদ্যালয়ের কার্যকারিতা, শিশুর উপযুক্ত শিক্ষণ পদ্ধতি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিশুরা কী রকম শিখছে তার মূল্যায়ন এবং ঝরে পড়াদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে ইউনিসেফ। মানোন্নয়নে আরও বিনিয়োগ যাতে হয়, সেজন্য শিশুর মাধ্যমিক স্তরে উত্তরণ নিশ্চিত করতে কৌশলগত প্রচারণা চালানো হয়। আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক ও সেকেন্ড চান্স শিক্ষায় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে ইউনিসেফ।

প্রতিবন্ধী ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার প্রসারে অন্য অংশীদারদের নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে ইউনিসেফ।

প্রান্তিক শিশুদের কাছে পৌঁছাতে ইউনিসেফ শিশুবান্ধব বিদ্যালয় ও নারী-পুরুষের বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশুর সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে তাকে শেখানোর পদ্ধতি প্রবর্তন করতে কাজ করছে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..