প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঝিনাইদহে নুয়ে পড়েছে অধিকাংশ আমনক্ষেত

দেলোয়ার কবীর, ঝিনাইদহ : তিন দিনের অতিবৃষ্টির সঙ্গে হালকা বাতাসে ঝিনাইদহের অধিকাংশ রোপা আমন ধানক্ষেত নুয়ে পড়েছে। এতে উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন কৃষক। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে বৃষ্টি না হলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কামারকুণ্ডু গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম জানান, গত তিন দিনের প্রচণ্ড বৃষ্টি ও হালকা বাতাসে তার তিন বিঘা জমির সব ধানই মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলেও কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

শৈলকুপা উপজেলার সাতগাছি, হাজরামিনা, দামুকদিয়া, মনোহরপুর ও হাবিবপুরের অনেক কৃষক জানান, ৪০-৪৫ শতাংশ জমির ধানই গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও হালকা ঝড়ে জমিতে শুয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ধানগাছ মাটি থেকে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না বলে তারা মনে করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক শংকর কুমার মজুমদার জানান, সদর, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টি ও বাতাসে মাটিতে নুয়ে পড়া ধানের জমি সর্বোচ্চ ১৫ ভাগ হতে পারে। গত তিন দিনে জেলায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। যদি নতুন করে বৃষ্টি না হয়, ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হবে না।

উপপরিচালক জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৯৯ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতে ধান দুধস্তরে রয়েছে। নুয়ে পড়া ধান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য গোছা করে এক সঙ্গে বেঁধে রাখতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।