মত-বিশ্লেষণ

ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

কভিড মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাংলাদেশ, জর্জিয়া ও ভারতে ফ্রি ফোন হেল্পলাইনগুলো শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা এবং সহায়তা দিচ্ছে। কভিড-১৯ লকডাউনে নিপীড়ন থেকে সুরক্ষা চেয়ে ভারতের চাইল্ডলাইনে ৯২ হাজারেরও বেশি কল আসে, যা আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।

বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি কাজাখস্তানে, যেখানে কভিডের কারণে সৃষ্ট উদ্বেগ, চাপ ও অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ইউনিসেফ ২০২০ সালের এপ্রিলে কিশোর-কিশোরীদের জন্য ব্যক্তিগত অনলাইন কাউন্সেলিং সার্ভিসের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে। তিন মাসে পাঁচ হাজারেরও বেশি স্কুল মনস্তত্ত্ববিদ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। দেশের অন্যান্য কর্মসূচিগুলো সহপাঠী বা সমবয়সীদের সমর্থন গ্রুপ এবং মা-বাবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক সংযোগের জন্য কার্যক্রম তুলে ধরে, যা কাউন্সেলিং ও সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি বোঝার এবং পরিচর্যার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতির থেকে দূরে রাখে।

একইভাবে বিশ্বজুড়ে সংগঠনগুলো তরুণদের সঙ্গে প্রমাণিত কার্যক্রম হস্তক্ষেপ এবং প্রচারের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়তা চাওয়ার বিষয়কে স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ, টাইম টু চেঞ্জ কথোপকথন শুরু করতে, সম্মানহানির মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে এবং তরুণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে যুক্তরাজ্যের শিক্ষক, স্কুল প্রশাসক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বৈষম্যের অবসান ঘটাচ্ছে।

আমাদের আরও কিছু করা দরকার: এই বিষয়ে যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন, দেশগুলোর তা করা দরকার। এর পাশাপাশি কমিউনিটি ও স্কুলগুলোতে তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তা নাটকীয়ভাবে সম্প্রসারণ করা এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের শিশুরা যাতে বাড়িতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য শিশু পালনে মা-বাবার জন্য প্রকল্প গড়ে তোলা দরকার। কভিড বৈষম্য করে না, তবে আমাদের সমাজগুলো করে। কভিড মহামারি বিশ্বের প্রায় প্রত্যেককে প্রভাবিত করেছে, তবে এটি আমাদের সবাইকে সমানভাবে প্রভাবিত করছে না। অনেক বেশি সংখ্যক দেশে আপনার জাতিসত্তা, আপনার গায়ের বর্ণ বা আপনার সম্পদের কারণে আপনাকে পরিণাম ভোগ করতে হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, আফ্রিকান আমেরিকানরা জনসংখ্যার ১৩ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, যাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কভিডজনিত কারণে মারা গেছে, আর শেতাঙ্গদের তুলনায় তাদের মারা যাওয়ার হার প্রায় চারগুণ।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..