ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন কাম্য নয়

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভাঙনপ্রবণ নদীগুলোর অন্যতম বাংলাদেশের পদ্মা ও মেঘনা নদী। বিশেষ করে চাঁদপুরের মোহনা ও তৎপরবর্তী ভাটি অঞ্চলে এ ভাঙনপ্রবণতা অনেক বেশি। আর পদ্মা ও মেঘনার সংযোগস্থলে অবস্থান হওয়ায় চাঁদপুর শহরও রয়েছে ভাঙনের প্রবল ঝুঁকিতে। এসব স্থানে নদী এতটাই উত্তাল, যে কোনো ধরনের শক্তিশালী বাঁধও নদীকে বশে আনতে পারে না। কাজেই এমন প্রলয়ংকরী নদীর তীরবর্তী স্থানে কোনো ধরনের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা কাম্য হতে পারে না।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: মেঘনার পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তুতি!’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে উল্লিখিত তথ্য-উপাত্ত সচেতন নাগরিকদের ব্যথিত করবে বৈকি। প্রতিবেদনটির তথ্য মতে, প্রবল ভাঙনের আশঙ্কায় থাকা মেঘনা নদীর একটি চরাঞ্চলে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ জায়গা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নদীর গতিপথ বিশ্লেষণের কোনো ধরনের হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়নি। আর বিধিসম্পন্ন কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করেই প্রমত্তা মেঘনার মাত্র ৭০০ মিটার দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে ছাড়পত্র দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্থানীয় কার্যালয়। একটি দায়িত্বশীল সংস্থার কাছ থেকে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বাংলাদেশ যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নদীভাঙন তার অন্যতম। প্রতি বছর নদীভাঙনের কারণে শত শত বসতবাড়ি, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের অবকাঠামো নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এমনকি যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর জন্য যে নদী শাসন করা হয়েছিল, তাতেও প্রতি বছর ভাঙনের সৃষ্টি হয় এবং পার্শ^বর্তী সিরাজগঞ্জ শহর ভাঙনের হুমকিতে পড়ে। দুটি বৃহৎ নদীর মোহনায় অবস্থান হওয়ায় চাঁদপুর শহরও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এমন খরসোতা নদীর উপকণ্ঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো স্থাপন করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা ভেবে দেখা সময়ের দাবি বলে মনে করি।

প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, কমদামের জমি সরকারের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ লোপাটের মানসে একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রভাব বিস্তার করে ওই স্থানটি নির্বাচন করতে বাধ্য করেছে। যদি তাই হয়, তাহলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয়দের এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করি। দেশের জনগণের করের অর্থে এ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন হবে। আবার এই জনগণের সন্তানরাই সেখানে পড়ালেখা করবে। কাজেই জনগণের করের অর্থের যাতে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকা উচিত বলে মনে করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।


সর্বশেষ..