ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে চার খাতের শেয়ার

নিরাপদ অবস্থানে ব্যাংক

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ২০১০ সালের পর বর্তমানে পুঁজিবাজার সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘদিন বাজারে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। পাশাপাশি নিয়মিত বাড়ছে সূচক ও সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর। এ কারণে এখানে নিয়মিত লেনদেন করা বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। তবে ইতোমধ্যে কিছু শেয়ার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি ছাড়া চারটি খাতের গড় শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই-রেশিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। ফলে এখনই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, বর্তমানে যে চারটি খাতের শেয়ারের পিই-রেশিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছেÑএগুলো হলো চামড়া, ভ্রমণ ও অবকাশ, কাগজ ও প্রকাশনা ও আর্থিক খাত। এর মধ্য চামড়া খাতের শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত ৯২.৬৯, আর্থিক খাতের ৪৪.৮৮, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ৪৯.১১ এবং কাগজ ও প্রকাশনা খাতের পিই-রেশিও অবস্থান করছে ৪৫.০৪ পয়েন্টে।

এদিকে বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত অবস্থান করছে ১৮.৬০ পয়েন্টে। এখনও সর্বোচ্চ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকের শেয়ার। বর্তমানে ব্যাংক খাতের পিই-রেশিও অবস্থান করছে ৭.৬৯ পয়েন্টে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৬.০৫, বস্ত্র খাতের ৩৭.৮৯, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২০.৫৯, প্রকৌশল খাতের ১৩.৯৪, বিমা খাতের ২৪.৭৬ ও বিবিধ খাতের পিই-রেশিও ২৪.২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একইভাবে খাদ্য খাতের ২০.৪২, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১১.৩৭, সিমেন্ট খাতের ১৮.৭৯, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৩.৬৯, সেবা ও আবাসন খাতের ২৪.২৫, সিরামিক খাতের পিই-রেশিও ৩০.১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলেন, বাজারে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার এখনও বিনিয়োগ-উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। তবে এই হিসাব করে বিনিয়োগকারীদের যে কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। উল্টো এ সময় বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বাজারের এ পরিস্থিতিতে কোনো কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে, তা বোঝা মুশকিল। সে ক্ষেত্রে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত ও কোম্পানির আর্থিক অবস্থা মাথায় রেখে বিনিয়োগ করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে সবার আগে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা দেখা দরকার। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের কী পরিমাণ রিটার্ন দিচ্ছে, তাও বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। আবার কোনো কোম্পানির শেয়ারের পিই কম হলেই সেই কোম্পানি ভালো হবে, সব সময় এমন ভাবা ঠিক নয়। অনেক দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাতও কম দেখা যায়। এ কারণে বিনিয়োগ করার বেলায় শুধু একটি দিকে দেখলে হবে না। তবে যদি মনে হয় কোনো কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে গেছে, তাহলে সেই কোম্পানি এড়িয়ে চলাই উত্তম।

সম্প্রতি সিংহভাগ শেয়ারদর বাড়ার কারণে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত কিছুটা বৃদ্ধি পায়। নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের মূল্য অনুপাত আয় যত কম, সেই শেয়ারে বিনিয়োগ তত ঝুঁকিমুক্ত। সাধারণত ১৫-এর নিচে পিই-রেশিও থাকলে শেয়ারকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিমুক্ত ধরা হয়। ২০-এর ওপরে পিই চলে গেলে তা ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর ৪০-এর ওপরে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত চলে গেলে সেই শেয়ারে মার্জিন সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়।

সর্বশেষ..