মার্কেটওয়াচ

ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের জন্য বন্ড মার্কেটকে সক্রিয় করতে হবে

সত্যিকার অর্থে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করতে চাইলে বাজারের পাশাপাশি বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন করতে হবে। ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ করার জন্য বন্ড মার্কেটকে সক্রিয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু প্রণোদনা বা আশ্বাস দিলে বাজারের কোনো সমাধান হবে না। এখন যদি বন্ড মার্কেট ভালো থাকত তাহলে একদিকে ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ বাড়ত। অন্যদিকে তাদের পোর্টফোলিওতে ইকুইটি ও বন্ড থাকত। দুটি বিষয় সমন্বয় করে লোকসান কমাতে পারত তারা। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
মাহমুদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক বাকী খলিলী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সালাউদ্দিন চৌধুরী, এফসিএ।
অধ্যাপক বাকী খলিলী বলেন, গত দুদিন বাজার ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ ও অর্থমন্ত্রী বেশকিছু আশ্বাস দিয়েছেন। আসলে বাজার এ আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না। বাজার ভালো করার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক বিষয় বিবেচনা করা দরকার। প্রথম বিষয় হচ্ছে, বিনিয়োগকারীরা যখন দেখবে একটি কোম্পানি ভালো পারফরম্যান্স করছে এবং সূচক বাড়ছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে। তৃতীয়টি হচ্ছে, ম্যাক্রো অর্থনীতি ভালো আছে। চতুর্থটি হচ্ছে, মানি মার্কেট ও ক্যাপিটাল মার্কেটের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শেয়ার কেনার আগে একজন বিনিয়োগকারীর মধ্যে এ বিষয়গুলো কাজ করে। অনেকদিন ধরে মানি মার্কেটে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিভিন্নভাবে ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে ফেলে এখন ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন করা হয়েছে। এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। আরেকটি বড় বিষয় হচ্ছে, বাজারের এ রকম অবস্থার মূল কারণ হচ্ছে বিএসইসির সক্রিয়তার অভাব। যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এবং চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিকে সঠিক নিয়মে বাজার উঠা-নামা করে। সেক্ষেত্রে বাজার স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে।
তিনি আরও বলেন, সত্যিকার অর্থে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করতে চাইলে বাজারের পাশাপাশি বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন করতে হবে। ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ করার জন্য বন্ড মার্কেটকে সক্রিয় করতে হবে। এটি খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু প্রণোদনা বা আশ্বাস দিলে বাজারের কোনো সমাধান হবে না। গত আট বছর ধরে শুনে আসছি বন্ড মার্কেট উন্নয়ন করা হবে কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি দেখা যাচ্ছে না। বাজার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন করতে হলে সরকারকে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন করতে হবে। যদি এখন বন্ড মার্কেটটি ভালো থাকত তাহলে একদিকে ঝুঁকিবিহীন বিনিয়োগ বাড়ত। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে ইকুইটি ও বন্ড থাকত। সেক্ষেত্রে দুটি বিষয় সমন্বয় করে লোকসান কমাতে পারত।
সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা নির্ভর করে বিনিয়োগকারীর আস্থার ওপর। শুধু এদেশের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে ৯ অন্য দেশের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে একই বিষয় নির্ভর করে। তাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে হবে। আরেকটি বড় সমস্যা তারল্য সংকট। যেখানে তারল্য সংকট রয়েছে সেক্ষেত্রে বাজারে কীভাবে অর্থ আসবে। ২০১০ সালে সূচক ছিল চার হাজার ১০০, ২০১৫ সালে ছিল চার হাজার ৫৮৩ এবং ২০১৯ সালে পাঁচ হাজার ৪০০ পয়েন্টে ঘুরপাক খাচ্ছে। কথা হচ্ছে, ২০১০ সালের অর্থনীতির আর ২০১৯ সালের অর্থনীতিতে অনেক ব্যবধান রয়েছে। গত বছর বাজারে প্রায় ১৭টি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সে হিসাবে সূচক ১৫ থেকে ২০ হাজার হলেও আশ্চর্যের কিছু ছিল না। কারণ ১০ বছরে অর্থনীতির অনেক উন্নয়ন হয়েছে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..