কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

টপটেন গেইনারের শীর্ষে রবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেশকিছু দিন পরে দেশের পুঁজিবাজারের ইতিবাচকভাবে শেষ হলো সপ্তাহের লেনদেন। গেল সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে চার দিন। সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বন্ধ ছিল লেনদেন। ইতিবাচকভাবে সপ্তাহ শেষ হলেও ঝিমিয়ে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কমেই চলেছে। সর্বশেষ সপ্তাহেও লেনদেন কমেছে ব্যাপকভাবে। একইসঙ্গে কমেছে বাজারের সব মূল্যসূচক।

এ অবস্থার মধ্যেই এ সপ্তাহের টপটেন গেইনারের শীর্ষে উঠে এসেছে পুঁজিবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া বহুজাতিক কোম্পানি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর রবি। আলোচিত এই কোম্পানিটির শেয়ারদর পরতির দিকে থাকলেও বিদায়ী সপ্তাহে দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল রবির শেয়ারের।

তবে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো মূল্য সংশোধন হয়েছে পুঁজিবাজারে। তাতে গত সপ্তাহেও বাজারে বেশিরভাগ শেয়ারের মূল্য ও সূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেন।

গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫৯ দশমিক ৬০ পয়েন্ট কমেছে। আগের সপ্তাহে তা ৯ দশমিক শূন্য তিন পয়েন্ট কমেছিল। সপ্তাহের শুরুতে এই সূচকের অবস্থান ছিল পাঁচ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে তা পাঁচ হাজার ৪১৬ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে শরিয়াহ্ সূচক ডিএসইএস ১৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট কমেছে, যা আগের সপ্তাহে ছয় দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়েছিল।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে ৩৭১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২১টির, কমেছে ১২৬টির। আর ১১৮টির দাম ছিল অপরিবর্তিত। অন্যদিকে ছয়টি কোম্পানির কোনো শেয়ার কেনাবেচা হয়নি আলোচিত সপ্তাহে।

গত সপ্তাহে বাজারে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন দেখা গেছে লেনদেনে। এ সপ্তাহে ডিএসইতে গড়ে দৈনিক ৫৮৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, আগের সপ্তাহেও যার পরিমাণ ছিল ৮৮৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সপ্তাহে ব্যবধানে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

১১ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে গেল সপ্তাহের টপটেন গেইনারের শীর্ষে উঠে আসে রবি। পুরো সপ্তাহে ১৬৯ কোটি ১৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা লেনদেন করে কোম্পানিটি। যার দৈনিক গড় দাঁড়ায় সপ্তাহ শেষে ৪২ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা। আলোচিত এ কোম্পানিটির পুঁজিবাজারের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৩ টাকা ৭০ পয়সায়, যা এর আগের কার্যদিবসের তুলনায় এক টাকা ৭০ পয়সা বা চার দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ বেশি। শেষদিন কোম্পানিটির শেয়ার সর্বনি¤œ ৪২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়। এদিন কোম্পানিটির মোট ৫৮ কোটি টাকারও বেশি শেয়ার হাতবদল হয়। সারা দিনে ১১ হাজার ৫৫৯ বারে এক কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ২০৫টি শেয়ার ইউনিট লেনদেন হয়।

২৪ ডিসেম্বর ২০২০ সালে বাজারে লেনদেন শুরু করা রবি ‘এন’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটির বাজার মূলধন আছে ২১ হাজার ৯৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার। অনুমোদিত মূলধন আছে ছয় হাজার কোটি টাকার এবং পরিশোধিত মূলধন আছে পাঁচ হাজার ২৩৭ কোটি টাকার। ৩১ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত এ কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৯০ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ আছে এর উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। দুই দশমিক শূন্য তিন শতাংশ আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং সাত দশমিক ৯২ শতাংশ আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আলোচিত বছরে কোম্পানিটি এর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি যদিও কোম্পানিটি ব্যবসা করে লাভে ছিল।

টপটেন গেইনারের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এ সপ্তাহে ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে এই অবস্থানে উঠে আসে কোম্পানিটি। সারা সপ্তাহে মোট ২৯ কোটি ৭৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয় যার দৈনিক গড় দাঁড়ায় সাত কোটি ৪৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা। তালিকার তিন নাম্বারে ছিল ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড। পুরো সপ্তাহে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ দর বাড়ে। টাকার অংকে ৫০ লাখ ২১ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয় যার দৈনিক গড় ১২ লাখ ৫৫ হাজার ২৫০ টাকা। তালিকার চার নাম্বারে ছিল প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। বিদায়ী সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ে ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। পুরো সপ্তাহে ৬৯ কোটি ২৭ লাখ ১২ হাজার টাকার লেনদেন হয় কোম্পানিটির, যা গড়ে প্রতিদিন ১৭ কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।

টপটেন গেইনারের  তালিকায় পাঁচে ছিল বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার লিমিটেড। এ সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ে আট দশমিক ৮০ শতাংশ এবং টাকার অঙ্কে লেনদেন করে ৭২ কোটি ২৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা যার দৈনিক গড় দাঁড়ায় সপ্তাহ শেষে ১৮ কোটি ছয় লাখ ছয় হাজার টাকা। গেইনারের এর পরের অবস্থানে ছিল ওষুধ খাতের প্রতিষ্ঠান বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এ সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ে আট দশমিক ৩৯ শতাংশ। টাকার হিসাবে সারা সপ্তাহে কোম্পানিটি মোট ৪৫ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকার লেনদেন হয় যার দৈনিক গড় ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ২৫০ টাকা। তালিকার সাত নাম্বারে ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন বাংলাদেশ। সারা সপ্তাহে সাত দশমিত ২১ শতাংশ দর বেড়ে এ অবস্থানে উঠে আসে কোম্পানিটি এবং টাকার পরিমাণে দৈনিক লেনদেন হয় তিন কোটি ৩০ লাখ ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় মোট ১৩ কোটি ২১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

এরপরের অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলহাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। এ সপ্তাহে ছয় দশমিক ৭৬ শতাংশ দর বাড়ে, যা টাকার অঙ্কে চার কোটি ৩০ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং দৈনিক গড় হিসাবে এক কোটি সাত লাখ ৫৩ হাজার ৫৭০ টাকা। এরপরের অবস্থানে আছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এডিএন টেলিকম লিমিটেড। ছয় দশমিক ৩১ শতাংশ দর বেড়ে কোম্পানিটি তালিকার ৯ নাম্বারে উঠে আসে। সারা সপ্তাহে মোট দুই কোটি ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করে যার গড় দৈনিক ৬৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৫০ টাকা। তালিকার সর্বশেষ স্থানটি দখল করে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। পাঁচ দশমিক ৯৩ শতাংশ দর বাড়ে কোম্পানিটির। সারা সপ্তাহে মোট সাত কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকার শেয়ার ইউনিট হাতবদল হয় যার গড় দৈনিক এক কোটি ৭৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..