প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

টমেটো চাষে ভাগ্য বদল

আলমগীর হোসেন, বগুড়া ব্যুরো: গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের বর্গাজমিতে টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলে ফেলেছেন সাজেদা বেগম। তিনি চলতি মৌসুমে টমেটো বিক্রি করে উৎপাদন খরচ বাদে চার লাখের বেশি টাকা লাভের আশা করছেন। তাকে নিয়ে তাই এলাকাবাসীর মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু টমেটো নয়, বালুময় জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষও করেন সাজেদা বেগম। ইতোমধ্যে চাষের জন্য বর্গা নিয়েছেন আট একর জমি। আর স্থায়ীভাবে থাকার জন্য কিনেছেন বসতভিটা।

স্বামী ও তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে সাজেদা বেগমের সংসার। ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ডাকাতিয়া চরের দিনমজুর আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী সাজেদা বেগম। তাদের বড় মেয়ে স্নাতক পাস করেছেন। মেঝো ছেলে এইচএসসি ও ছোট ছেলে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

সাজেদা বেগম জানান, স্বামী দিনমজুর হওয়ায় পাঁচ সদস্যের সংসার চলতো না। অর্ধাহারে-অনাহারে কাটতো দিন। খোঁজ-খবর নেওয়ারও কেউ ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে বাবার বাড়িতে ওঠেন। স্বামীর কর্মসংস্থানের আশায় ২০১০ সালে গাইবান্ধার গণউন্নয়ন কেন্দ্রের লাভলিহুড ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে সদস্য হন, শুরু করেন সঞ্চয়। একই সঙ্গে হাতে-কলমে কৃষির ওপর প্রশিক্ষণ নেন সাজেদা বেগম। পরে লাভলিহুড থেকে সবজি চাষের জন্য ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সে টাকা দিয়ে ২০ শতক জমিতে কপি ও টমেটো চাষ শুরু করেন। এরপর সাজেদা বেগমকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্রমান্বয়ে সবজি চাষের জমির পরিধি বাড়াতে থাকেন। মৌসুমভিত্তিক জমি বন্ধক নিয়ে আট একরে কপি ও টমেটো চাষ করেছেন। এবছর তার জমি থেকে ৫০ মণ টমেটো সংগ্রহ করা হবে। উৎপাদিত টমেটো গাইবান্ধা শহরে কাঁচামালের আড়তসহ ঢাকায় বাজারজাত করছেন।

সাজেদা বেগম জানান, আট একর জমিতে কপি ও টমেটো চাষে ব্যয় হয়েছে সাড়ে আট লাখ টাকার বেশি। এসব সবজি বিক্রি করে ইতিমধ্যে প্রায় আট লাখ টাকা তুলে ফেলেছেন। জমিতে থাকা টমেটো বিক্রি করে আরো চার লাখের বেশি টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন।

গতবছর টমেটো বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে ১৫ শতক জমি কেনেন। সেখানে ৩০ হাত লম্বা চৌচালা টিনের ঘর নির্মাণ করেন সাজেদা।

সাজেদা বেগমের স্বামী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কৃষিকাজে কোনো ধারণা ছিল না। এনজিও থেকে প্রশিক্ষণ ও বীজ ভাণ্ডারের পরামর্শে চাষাবাদ শুরু করি।’ মাত্র ২০ শতক জমি থেকে আট একরে সবজি চাষ করা নিয়ে তিনি বেশ উৎফুল্ল।

এরেন্ডাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন মণ্ডল বলেন, ‘চরের জমিতে বসবাস ও টমেটো চাষ করে সাজেদা বেগম আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সবজি চাষ করে জমি বর্গা, বসবাসের জন্য জমি কেনা ও সন্তানদের লেখাপড়া চালাচ্ছেন। তার সফলতা এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’

ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহাজুল ইসলাম জানান, কৃষিক্ষেত্রে সাজেদা বেগমের ভূমিকা আমাকে মুগ্ধ করেছে। পাশাপাশি সাজেদা চরের জমিতে টমেটো উৎপাদন করে চরের কৃষকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সাজেদা বেগমের সবজি চাষে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।