দিনের খবর সারা বাংলা

টাঙ্গাইলে পানির নিচে ১১০ হেক্টর জমির ধান

বিপাকে কৃষক

শাহরিয়ার সিফাত, টাঙ্গাইল: দেশের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে ফসলি জমির বড় অংশ রয়েছে টাঙ্গাইলে। আর এ ফসলি জমির বেশিরভাগই এখন সোনালি ধানে পরিপূর্ণ। আর মাত্র দু-তিনদিন পরই গোলায় উঠত কৃষকের এ সোনালি ধান। কিন্তু অনেক কৃষকের গোলাতেই এবার থাকবে ধানের খরায়। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আর এতে ভেঙে গেছে শত শত কৃষকের সোনালি স্বপ্ন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক কৃষক পানির নিচ থেকেই ডুবে ডুবে ধান কেটে তুলছেন। আবার কোনো কোনো কৃষকের ক্ষেতে পানি কম থাকায় তারা সহজেই ধান কাটতে পারছেন। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা।

জেলার বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলায় গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে বংশাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিন্মাঞ্চলের আবাদি জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। কোনো কোনো বোরো ক্ষেত একেবারেই তলিয়ে গেছে। আবার কোনো ক্ষেতের ধান কিছুটা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় যতটুকু সম্ভব কৃষকরা ধান কাটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ শ্রমিকের অভাবে পানির নিচে থাকা ধান কাটতেও পারছেন না বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে বাসাইল উপজেলার বাসুলিয়া, কাঞ্চনপুর, পূর্বপৌলী, মটেশ্বর, পূর্বমটেশ্বর, আগমটেম্বর, সিঙ্গারডাক, যৌতুকী ও মির্জাপুর উপজেলার পাটদিঘী, সুতানরী, বৈন্নাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাসাইল উপজেলার মটেশ্বর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অন্যের প্রায় তিন একর জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছি। ফলনও এবার ভালো হয়েছিল। প্রায় এক একর জমির ধান কয়েকদিন আগে কেটেছি। কিন্তু দু’দিনের মধ্যে ক্ষেতে পানি এসে আমার দুই একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিকের অভাবে ধানগুলো কাটতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করি। তিন একর জমিতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এবার সব শেষ হয়ে গেল। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মতো আমার কোনো উপায় নেই।’

একই এলাকার কৃষক মোমরেজ আলী বলেন, ‘আমার প্রায় চার একর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত দুই একর জমির ধান পানি থেকেই কেটেছি। শ্রমিকরা পানিতে ধান কাটতে চাচ্ছে না। তাদের বাজার দরের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।’

কৃষক সোনা মিয়া বলেন, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে নদী ভরাট হয়ে বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখন ১১০০ টাকা করে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। প্রায় পাঁচ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। এ পর্যন্ত তিন একর জমির ধান কেটেছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘জেলার বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার নিন্মাঞ্চলে ১১০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যেই ধান কেটে ফেলেছেন। আবার কোনো কোনো কৃষক এখনও পানির নিচ থেকেই ধান কাটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার জেলায় এক লাখ ৬৯ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। জেলায় ইতোমধ্যেই ৭০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..