প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

টানা উত্থানের পর মুনাফা গ্রহণে দর সংশোধন

মো. আসাদুজ্জামান নূর: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। কমেছে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণও। এর মধ্য দিয়ে নতুন বছরে ১৬ কার্যদিবসের মধ্যে তৃতীয় দিনের মতো সূচকের পতন হয়েছে।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা উত্থানের পরে মুনাফা গ্রহণ প্রবণতার কারণেই এ পতন, যা স্বাভাবিক দর সংশোধনের অংশ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় থাকায় মাঝারি সংশোধনের ঘটনা স্বাভাবিক।

গতকাল হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৪৮২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৬০১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১২১ কোটি টাকা। তবে গত ১৪ কার্যদিবস ধরে টানা এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। বিবিধ, ওষুধ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেশি দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় লেনদেন সবচেয়ে বেশি ১৬ দশমিক শূন্য আট শতাংশ অবদান রেখেছে বিবিধ খাত।

এরপরেই ওষুধ ও রসায়ন ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, প্রকৌশল আট দশমিক ৩৩ শতাংশ, খাদ্য সাত দশমিক ৭৫ ও বস্ত্র খাতের অবদান ছিল সাত দশমিক ৬৪ শতাংশ। বাকি খাতগুলোর লেনদেন সাত শতাংশের নিচে ছিল।

এদিন প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল সাধারণ বিমা খাত। এই খাতের ৯৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেনি একটিরও। পাঁচ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর ছিল অপরিবর্তিত। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এর বাইরে ব্যাংক, আর্থিক, বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়নের মতো প্রধান খাতগুলোয় কমেছে সিংহভাগ শেয়ারের দর।

দিনশেষে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ২৪৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির। এর প্রভাবে ডিএসইর তিনটি সূচকই কমতে দেখা গেছে।

সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের। শেয়ারদর এক দশমিক ২৫ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৯ দশমিক শূন্য চার পয়েন্ট। টেলিযোগাযোগ খাতে রবির দর কমেছে এক দশমিক ৭৯ শতাংশ, সূচক থেকে হারিয়ে আট দশমিক শূন্য চার পয়েন্ট। লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ারদর দুই দশমিক ছয় শতাংশ কমায় সূচক কমেছে পাঁচ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট।

এছাড়া স্কয়ার ফার্মা চার দশমিক ৪৭ পয়েন্ট, বেক্সিমকো লিমিটেড চার দশমিক ২৩ পয়েন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির তিন দশমিক ১৮ পয়েন্ট, পদ্মা অয়েল তিন দশমিক ১৭ পয়েন্ট, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন দুই দশমিক ৭৪ পয়েন্ট, ব্র্যাক ব্যাংক দুই দশমিক ৪৪ পয়েন্ট ও এসিআই লিমিটেডের কারণে সূচক কমেছে এক দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক ফেলেছে ৪৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট।

এর বিপরীতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির শেয়ারদর দুই দশমিক ৬৯ শতাংশ বাড়ার পর সূচকে যোগ হয়েছে ২০ দশমিক ৬১ পয়েন্ট। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গ্রামীণফোন সূচক বাড়িয়েছে চার দশমিক ৪৪ পয়েন্ট। শেয়ারদর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪২ পয়েন্ট। এছাড়া বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল, রেনাটা, বীকন ফার্মা, লিনডে বিডি, বেক্সিমকো ফার্মা, সোনালী পেপার, বার্জার পেইন্টস ও ইউনিলিভার কনজ্যুমার সূচকে বেশ কিছু পয়েন্ট যোগ করেছে। সব মিলিয়ে এ ১০ কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৪৬ পয়েন্ট।