Print Date & Time : 19 September 2021 Sunday 10:36 pm

টানা দ্বিতীয় বছর কমল বিদেশি বিনিয়োগ

প্রকাশ: June 21, 2021 সময়- 12:54 am

ইসমাইল আলী: প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে বরাবরই বাংলাদেশ খুব একটা সাফল্য দেখাতে পারেনি, যদিও ২০১৮ সালে হঠাৎ এ খাতে বড় ধরনের উত্থান হয়। সে বছর বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ বাড়ে প্রায় ৬৮ শতাংশ। এতে প্রথমবারের মতো সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এফডিআই প্রবাহ। তবে সে ধারা স্থায়ী হয়নি। এরপর টানা দুই বছর ধরে কমছে বিদেশি বিনিয়োগ।

জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট, ২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ বিশ্বব্যাপী প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এতে দেখা যায়, করোনার প্রভাবে গত বছর বিশ্বব্যাপী বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ৩৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। এক দশকেরও বেশি সময় পরে এ প্রবাহ এক ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলারের নিচে নেমে গেছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ কমেছে ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এতে গত বছর দেশে এফডিআই এসেছে দুই দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল দুই দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত বছর তিন দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার এফডিআই প্রবাহ কমেছে। আর ২০১৯ সালে রেকর্ড ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ এফডিআই প্রবাহ কমেছিল।

করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কভিড-১৯) সংক্রমণের অভিঘাতে গত বছর প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) এফডিআই প্রবাহ অনেকখানি হ্রাস পায়। সে সময় দেশে এফডিআই আসে এক দশমিক ১৮৮ বিলিয়ন ডলার। তবে সংক্রমণ কমে আসা ও লকডাউন তুলে নেয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) এ প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। এ সময় এফডিআই প্রবাহ ছিল এক দশমিক ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি আদেশ বাতিল করেছে। এতে বাংলাদেশের সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও এফডিআই সংকুচিত হয়েছে। এ সময় তৈরি পোশাক খাত থেকে এফডিআই মূলত অনবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ফিনটেক (আর্থিক খাতে প্রযুক্তি) প্রকল্পে স্থানান্তরিত হয়েছে।

এফডিআই প্রবাহের মধ্যে গত বছর বাংলাদেশে ইক্যুইটি ক্যাপিটাল হিসেবে এসেছে ৮৪২ মিলিয়ন ডলার, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ (রি-ইনভেস্ট) হয়েছে এক হাজার ৫৬৬ মিলিয়ন ডলার ও আন্তঃকোম্পানি ঋণ হিসেবে এসেছে ১৫৫ মিলিয়ন ডলার। তবে কয়েক বছর ধরে দেশে গ্রিন ফিল্ড বিদেশি বিনিয়োগ কমছে। কয়েক বছরে তা প্রায় ৮৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এফডিআই প্রবাহে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ২০২০ সালে শীর্ষে রয়েছে কম্বোডিয়া। এশিয়া মহাদেশের এ দেশটিতেও গত বছর বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে এক শতাংশ। এতে দেশটি তিন দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার এফডিআই পেয়েছে। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইথিওপিয়ার এফডিআই প্রবাহ ছিল গত বছর দুই দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। আর চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে থাকা মোজাম্বিক ও মিয়ানমারে এফডিআই প্রবাহ ছিল যথাক্রমে দুই দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ও এক দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

আঙ্কটাডের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল ঢাকা টোব্যাকো অধিগ্রহণ। জাপান টোব্যাকোর ওই অধিগ্রহণের আর্থিক মূল্য ছিল দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি। ফলে সে বছর এফডিআই প্রবাহ ছিল তিন দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০১৭ সালে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল দুই দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, ২০১৬ সালে দুই দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার ও ২০১৫ সালে দুই দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

যদিও বাংলাদেশে এফডিআই স্টক বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এতে দেখা যায়, ২০০০ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের আন্তঃপ্রবাহের স্টক ছিল দুই দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ছয় বিলিয়ন ডলার। আর গত বছর তা আরও বেড়ে ১৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২০ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা ভারতে গত বছর বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ ছিল ৬৪ দশমিক শূন্য ছয় বিলিয়ন ডলার। এ সময় দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানে দুই দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার এফডিআই যায় গত বছর। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলো এক বিলিয়ন ডলার করেও এফডিআই পায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে বিশ্বে মোট বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ ছিল প্রায় ৯৯৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৯ সালে এ প্রবাহ ছিল এক দশমিক ৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া ২০১৮ সালের এ প্রবাহ ছিল এক দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার। করোনার প্রভাব না কাটলেও চলতি বছর বিশ্বব্যাপী এফডিআই কিছুটা বাড়বে বলে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আঙ্কটাড।