প্রচ্ছদ শেষ পাতা

টানা পতনে সূচক সাড়ে চার হাজারে

অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের সঙ্গে বসবে ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর ক্রয়যোগ্য অবস্থানে রয়েছে। অধিকাংশ শেয়ারের মূল-আয় অনুপাতও (পিই রেশিও) রয়েছে সহনীয় অবস্থায়। নেই অতিমূল্যায়িত শেয়ার। কিন্তু তাপরও দীর্ঘ সময় ধরে পতন পুঁজিবাজারে পতন অব্যাহত রয়েছে। এতে সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি চলে এসেছে সূচক।

কোনো পদক্ষেপে এ পতন রোধ করা যাচ্ছে না। বরং দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে গত দুই দিনের বড় পতন। এ অবস্থায় কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায় ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ।

ডিএসইর গতকালের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান পুঁজিবাজার পরিস্থিতি উত্তরণ এবং তার টেকসই উন্নয়নের জন্য ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসবেন।

এ বিষয়ে অবিলম্বে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বৈঠকের জন্য সময় চেয়ে চিঠি দেওয়ার জন্য ডিএসই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পরপর দুদিন বড় পতনের ধাক্কায় ডিএসইর প্রধান সূচক নেমে গেছে ৩৯ মাস আগের অবস্থানে চলে গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক। গতকাল ৬২ পয়েন্ট হ্রাস পাওয়ার মধ্য দিয়ে সূচক ৩৯ মাস ৯ দিন আগের অবস্থানে নেমে যায়। দিন শেষে সূচকের অবস্থান হয় চার হাজার ৫৩৩। শতাংশের হিসাবে সূচকের পতন হয়েছে প্রায় দেড় শতাংশ।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট সূচকের অবস্থান ছিল চার হাজার ৫২৬ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে। দুই দিনে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের বাজার মূলধন কমেছে আট হাজার কোটি টাকা।

এদিকে পতন যতই বড় হচ্ছে, পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। সম্প্রতি বড় পতন তাদের আরও ভাবিয়ে তুলছে। ফলে বাজার স্থিতিশীল হবেÑএতদিন যারা এ কথা ভেবে অপেক্ষা করছিলেন, তারাও উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তারা। কারণ এসব বিনিয়োগকারীর লোকসানের বোঝা প্রতিদিনই ভারি হচ্ছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দেখা যায়, প্রতিদিনই উধাও হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া একযোগে কমছে তালিকাভুক্ত সব খাতের শেয়ারের দর, যার জের ধরে আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার মূলধন। গতকাল একদিনেই বাজার মূলধন কমে গেছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা।

এ পরিস্থিতিতে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা, বাড়ছে ক্ষোভ। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, পুঁজিবাজার নিয়ে তারা খুবই শঙ্কিত। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের অবস্থা আরও করুণ হবে বলে তারা অভিমত প্রকাশ করেন।

বিনিয়োগকারীরা জানান, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে এমন অপেক্ষায় থেকেও কোনো ফল পাচ্ছেন না। তারা বলেন, প্রায় সব ধরনের শেয়ার বিনিয়োগযোগ্য অবস্থায় থাকার পরও বাজারে বর্তমানে যে পরিস্থিতি রয়েছে তা কাম্য নয়। এটা কেউ কৃত্রিমভাবে করছে কি না, তাদের চিহ্নিত করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে লুৎফর রহমান নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, বহুদিন থেকে বাজারে নীরব দরপতন চলছে। অথচ বিএসইসিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখছে না। সবার আগে কারা বাজার নিয়ে কারসাজি করছে, তাদের বের করা দরকার। সেটা করা হচ্ছে না। ফলে বাজারও তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসছে না।

এদিকে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের জন্য অনেক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুই কাজে আসেনি। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বিনিয়োগকারীরা। মূলত তাদের মনোগত কারণেই পতন থামানো যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন শেয়ার বিজকে বলেন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব রয়েছে। তবে এর জন্য তারা একা দায়ী, তা বলব না। যাদের বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার কথা তারাও তারল্য সংকটে ভুগছে। ফলে বাজারচিত্র বদলাচ্ছে না। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের এমনিতেই আস্থার ঘাটতি রয়েছে। তার ওপর বেশিরভাগ কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকে তাদের কোনো সুখর দিতে পারিনি। এটাও বাজার পতনের জন্য একটি কারণ। তবে আমরা আশা করছি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশিলতা ফিরে আসবে।

এদিকে গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যলয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ঠিক কোনো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..