প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

টানা বর্ষণে জলমগ্ন যশোরের সবজিক্ষেত

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, যশোর: সবজি চাষে বিখ্যাত যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নের সবজি ক্ষেতগুলোয় থৈ-থৈ করছে বৃষ্টির পানি। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা বর্ষণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অসময়ের অঝোর বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে মুলা, শিম ও বাঁধাকপির। এতে ক্ষতি হবে আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকার অধিক। তবে বৃষ্টি আরও দু-এক দিন হলে ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।

চাষিরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির দাম বেশি পাওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে শুরু হওয়া অধিক বৃষ্টির পানিতে তাদের স্বপ্ন ভেসে যাচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সব সবজিচাষি। সাধারণ মানুষকে সবজির জন্য আরও বেশি খরচ করতে হবে। তবে বেশি বিপাকে পড়তে হবে অল্প পুঁজির চাষি ও বর্গাচাষিদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে ১২ মাসই কোনো না কোনো সবজির চাষ হয়ে থাকে। বৃহত্তর যশোর জেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয় এখানে, যে কারণে এ এলাকাকে সবজির রাজধানী হিসেবেই জানে মানুষ। বর্তমানে ভরা মৌসুমে এখানকার মাঠে মাঠে রয়েছে সবজির সমারোহ।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে ৬৮৫ হেক্টর, হৈবতপুর ইউনিয়নে ৯৯৫ হেক্টর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে সাড়ে ৩০০ হেক্টর জমিতে এবার সবজির চাষ হয়েছে, যে কারণে যেদিকে চোখ যায় সেদিকে রয়েছে সবজি ক্ষেত। কিন্তু প্রবল বর্ষণের কারণে এসব ক্ষেত এখন জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। চাষিরা ক্ষেত থেকে পানি বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হচ্ছেন। এ কারণে তারা হতাশার চোখে ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা বলেছেন, ক্ষেত জলমগ্ন হওয়ায় বেশি ক্ষতি হবে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, শসা, বেগুন, শিম, লালশাক, সবুজ শাক ও কপির বীজতলার।

চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আবদুলপুর গ্রামের মোড়ল হোসেন জানান, লিজ নেওয়া তিন বিঘা জমিতে মুলা বাঁধাকপি ও ফুলকপির চাষ করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত তার আড়াই লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। আশা ছিল এ বছর সবজি চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। বাজারে মুলা বিক্রি করে দামও পাচ্ছিলেন বেশ। কিন্তু প্রবল বর্ষণে তার সবজি ক্ষেতগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সে কারণে তার মাথায় হাত উঠেছে।

সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন আবদুলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম, লিটন হোসেন, ফারুক হোসেন, মতিয়ার রহমান, পোলতাডাঙ্গা গ্রামের জাপলা মিয়া, কামাল হোসেন, বাগডাঙ্গার হযরত আলী, চুড়ামনকাটি গ্রামের হযরত আলী, মনোয়ার হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, রুহুল আমিন, মিজানুর রহমান, হারুন হোসেন, শামসুল ইসলাম, হৈবতপুর গ্রামের আতিয়ার, রবিউল ইসলাম, মানিকদিহি গ্রামের শমসের আলী, লাউখালী গ্রামের মিন্টু হোসেন, ঘোনা গ্রামের মুকুল হোসেন ও বিজয়নগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম।

তারা এ প্রতিবেদককে জানান, ক্ষেতে পানি জমে থাকায় তাদের সব সবজি নষ্ট হয়ে যাবে। পানি সরানো যাচ্ছে না। কোনো উপায়েই সবজি রক্ষা করা সম্ভব নয়। প্রবল বর্ষণে চাষিরা আর্থিকভাবে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

গতকাল চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ  মুলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও শিম ক্ষেত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ক্ষেতের ওপর পানির স্রোত বইছে। এ অবস্থা দেখে অনেক চাষি কষ্টে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তাদের প্রশ্নÑএ ক্ষতি পুষিয়ে নেব কীভাবে?

চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নে গত শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪২০ হেক্টর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

হৈবপুতর ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা হাসান আক্তার বলেছেন, তার ইউনিয়নে পানিতে তলিয়ে গেছে ৬১৫ হেক্টর জমির সবজি। আর কাশিমপুর ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা খাইরুননেছা জানান, তার ইউনিয়নে ১৮০ হেক্টর সবজি ক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

এ তিন কৃষি কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রবল বর্ষণে এ তিন  ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ কোটি টাকারও বেশি সবজির ক্ষতি হতে পারে। পানি সরে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যাবে।