বিশ্বসাথে

টানা সাত প্রান্তিকে ব্রাজিলের জিডিপি নিন্মমুখী

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের চেয়ে ব্রাজিলের দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে জিডিপি কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। এ নিয়ে দেশটিতে টানা সাত প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি কমলো। খবর সিনহুয়া।

ব্রাজিলের স্টেট স্ট্যাটিসস্টিক ইনস্টিটিউট এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে, দেশটির অর্থনীতির সবগুলো খাতেই তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে। ওই সময়ে আগের প্রান্তিকের তুলনায় কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, শিল্প খাতে কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং  টারশিয়ারি খাতে কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ।

এছাড়া আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কৃষি খাতে ৬ শতাংশ, শিল্প খাতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ ও সেবা খাতে ২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমেছে।

২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্রাজিলের অর্থনীতি গড়ে ৪ শতাংশ কমেছে।

তথ্যমতে, পরিবার খাতে খরচ দ্বিতীয় প্রান্তিকে দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগের বছর একই সময়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। সরকারি খরচ কমেছে আগের প্রান্তিকের চেয়ে দশমিক ৩ শতাংশ এবং গত বছর একই সময়ের চেয়ে দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্রাজিলের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ওই সময়ে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, শিল্প খাতে কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ও সেবা খাতে কমেছে ১৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ।

এছাড়া তৃতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় ব্রাজিলে বিনিয়োগ কমেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং আগের বছর একই সময়ের চেয়ে কমেছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

ব্রাজিলের মাসিক কর রাজস্ব কমে ছয় বছরের মধ্যে সর্বনি¤েœ চলে এসেছে। জুলাই মাসে দেশটির কর রাজস্ব হয়েছে ৩৩ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। গত বছর একই সময়ের চেয়ে যা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কম। ২০১০ সালের পর দেশটির মাসিক রাজস্ব এটাই কম।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটির কর রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২৫ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ পরিমাণ ৭ দশমিক ১ শতাংশ কম, যা গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ।

কর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব কমে যাওয়ার পেছনে শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পণ্যের বিক্রি কমে যাওয়াসহ বেশ কিছু কারণকে তালিকাভুক্ত করেছেন।

চলতি বছরে দেশটির সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর রাজস্বের এ কমতি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৬ অর্থবছরে ইতোমধ্যে বাজেট লক্ষ্যমাত্রায় ৫২ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি রয়েছে দেশটিতে। চলতি বছরের বাকি মাসগুলো কীভাবে এ ঘাটতি মোকাবিলা করবে তাই নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিসিবির এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছর ব্রাজিলের অর্থনীতি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমবে। ২০১৫ সালে ব্রাজিলের দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। চলতি বছর কমলে টানা দুই বছর দেশটির অর্থনীতি কমবে।

বিসিবির পূর্বাভাস ফাইন্যান্সিয়াল বাজারের প্রতিবেদনের তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক। ফাইন্যান্সিয়াল বাজার

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে চলতি বছরে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ অর্থনীতি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে ২০১৭ সালের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস একই।

প্রতিবেদন মতে, চলতি বছর মূল্যস্ফীতি হবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৫ সালে ব্রাজিলের মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশে পৌঁছায়। ২০০২ সালের পর যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

২০১৭ সালের জন্য ব্রাজিলের মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের পূর্বাভাসে যা ৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্যমাত্রার (৪ দশমিক ৫) চেয়ে যা সামান্য কম।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে মুদ্রানীতি অনুযায়ী নির্ধারিত সুদের হার ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রয়েছে। এক দশকের মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমায় ব্রাজিলের অপরিশোধিত জ্বালানি খাতে রয়্যালিটি চলতি বছরে ২৯ শতাংশ কমেছে। ডলারের বিপরীতে ব্রাজিলের মুদ্রা রিয়েলের অবমূল্যায়নও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর দেশটির রয়্যালিটি কমলো।

ব্রাজিলিয়ান সেন্টার ফর ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিবিএলই) এর মতে, ল্যাটিন আমেরিকার এ দেশটিতে ২০১৬ সালে জ্বালানি তেলের রয়্যালিটি কমে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০০৯ সালের পর এটাই সবচেয়ে বড় পতন।

ব্রাজিলের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএনপির মতে, ২০০৫ সালে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালিটি কমেছিল। তার পরে টানা দুই বছর রয়্যালিটি কমলো এবারই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় এবং ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা রিয়েলের অবমূল্যায়নের কারণেই রয়্যালিটি কমেছে।

ব্রাজিলের কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজ্য থেকে জ্বালানি তেলের রয়্যালিটি আসে। এসব রাজ্যের এ রয়্যালিটি কমে যাওয়ায়, কেন্দ্র, রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের অর্থনীতিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে রিও ডি জেনেরিও রাজ্যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশি মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। এ রাজ্যটি ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদকারী অঞ্চল। রাজ্যটির অর্থনীতি সাধারণত তেল ও গ্যাস শিল্পনির্ভর। এ মন্দা কাটিয়ে উঠতে রাজ্যে ভবিষ্যৎ তেল রয়্যালিটি বন্ড ইস্যু বিবেচনা করছে।

এছাড়া ব্রাজিলের প্রায় ৭৫ শতাংশ কোম্পানির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্দ পর্যায়ভুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা স্টান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর (এসঅ্যান্ডপি)।

সংস্থাটির ক্রেডিটওয়াচ কর্মসূচির আওতায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এসব কোম্পানিগুলোকে। এরই মধ্যে দেশটির ৬৫ শতাংশ কোম্পানি এ পর্যায়ভুক্ত হয়েছে।

ব্রাজিলের মুদ্রার টালমাটাল অবস্থা ও প্রত্যাশার চেয়ে কম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্রেডিট রেটিং-এ ব্রাজিলের  কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এসঅ্যান্ডপি পূর্বাভাস দিয়েছে ২০১৭ সালে ব্রাজিলের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..