প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

টিইউসির গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা: মজুরি বাড়ানোর বিরুদ্ধে মালিকদের অজুহাত মিথ্যা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন-যাপনের ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ফলে বিদ্যমান মজুরিতে শ্রমিকদের পক্ষে বেঁচে থেকে উৎপাদনশীলতা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার দাবি তুললেই মালিকপক্ষ ও মন্ত্রী-এমপিরা নানা অজুহাত দেন। তারা যেসব প্রতিবন্ধকতা দেখান, তার সবই মিথ্যা। গতকাল শুক্রবা টিইউসির গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা: মজুরি বাড়ানোর বিরুদ্ধে মালিকদের অজুহাত মিথ্যার রাজধানীর মুক্তি ভবনে এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রে (টিইউসি) ‘পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি: সমাধান কোন পথে’ শীর্ষক এ বৈঠক আয়োজন করে।

অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে ও জলি তালুকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ বন্দররক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরী, নারীনেত্রী রোকেয়া কবির, টিইউসির সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন প্রমুখ।

সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমান মজুরিতে খেয়ে পরে বেঁচে থেকে উৎপাদন  ও উৎপাদনশীলতা রক্ষা করা শ্রমিকদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকদের জীবনের ব্যয় বাড়ছে, মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে।

মন্ত্রী, এমপি, আমলা, সরকারি, চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। কিন্তু গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার দাবি তুললেই মন্ত্রী-এমপিরা শ্রম আইনের অজুহাত দেন, অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রচলিত শ্রম আইনেই তিন বছর পর মজুরি বাড়ার বিধান রয়েছে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার প্রশ্ন উঠলেই মালিকপক্ষ এবং তাদের লোকেরা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার কথা বলেন। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় কম মজুরি পায়। কিন্তু এদেশের পোশাক শিল্প মালিকদের মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি। এতে প্রমাণিত হয় শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার দাবি উঠলে যেসব প্রতিবন্ধকতা দেখানো হয়, তার সবই মিথ্যা।’ তিনি সব খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম বেতন ১৫ হাজার টাকা করা উচিত বলে মত দেন।

নারীনেত্রী রোকেয়া কবির বলেন, সরকার কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব না।

টিইউসির সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার আন্দোলনকে দমন করার জন্য নানা বিভ্রান্তি, অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্য শ্রমিক নেতারা বলেন, সম্প্রতি ঢাকার আশুলিয়ায় মজুরি বাড়ার দাবিতে গড়ে ওঠা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে অনেক শ্রমিককে ছাঁটাই ও মামলার শিকার হতে হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে এসব উদ্যোগ পোশাক শিল্পে আরও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।