দিনের খবর শেষ পাতা

টিকার টাকা ভারত ফেরত দেবে কি না, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: টিকা না দিলে ভারত টাকা ফেরত দেবে কি না জানতে চাইলে গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানে। তারা এটা দেখভাল করছে। এ সময় সাংবাদিকরা আরও কিছু প্রশ্ন রাখেন অর্থমন্ত্রীর কাছে। তবে কোনো প্রশ্নেরই ঠিকঠাক জবাব দেননি অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) প্রণোদনার টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বাড়তি সময় চাচ্ছে। সময় কি দেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো আবেদন আসেনি। এলে দেখব, কী করা যায়।’

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশ না করা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় গেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলা চলমান। এ পর্যায়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

৫ থেকে ১০ টাকার সার্জিক্যাল মাস্ক ৩৫৬ টাকায় কেনা হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটির কাছে ধরা পড়েছে। এগুলো সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এগুলো তদারক করা হবে। এ নিয়ে জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ রয়েছে। নিজেরাই কেনাকাটা করতে পারেন।

বাজেট ঘাটতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ১৮, ভারতের ১৩, জাপানের ১২ দশমিক ৯, চীনের ১১ দশমিক ৮৮, ইন্দোনেশিয়ার ৮ ও ভিয়েতনামের ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ভিয়েতনাম বাংলাদেশের প্রায় সমান। এ বছর পৃথিবীর সব দেশই বাজেট ঘাটতি অনুসরণ করছে। বাজেটে ঘাটতি আমাদের একার নয়, সবার এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘ধনী অথবা ধনী নয়, উন্নয়নশীল অথবা উন্নত দেশের সবাই কিন্তু এ বাজেট ঘাটতি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ অনেক, চ্যালেঞ্জ নেই তা বলব না। আমরা চ্যালেঞ্জগুলো সবসময় সুযোগ হিসেবে চিন্তা করি। কারণ ইতিহাস থেকে আমরা দেখেছি, অর্থনৈতিক দেশ থেকে যখনই কোনো চ্যালেঞ্জ আসে, তাদের অপরচুনিটি বাড়ে। আমরা মনে করি, আমাদের অপরচুনিটিও বাড়বে। বছর শেষে আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির গতিবিধি অনেক ঊর্ধ্বমুখী।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজস্ব আহরণ ছিল প্রধান সমস্যা। রেভিনিউ অর্জন এখন ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। রপ্তানিতেও প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ। রিজার্ভের পরিমাণ এ মাসেই ৪৬ বিলিয়ন ডলার হয়ে যাবে। রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলার, গত বছর ১৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।’

করোনাকালে আমরা জনগণকে টাকার জোগান দিয়েছি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়। এতে সবাই অন্তত খাবার পেয়েছে। মোটামুটিভাবে তারা তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পেরেছে। আগামী অর্থবছরে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতি ঊর্ধ্বমুখী বলে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..