প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

টিকার সব ডোজ নিলে কভিড হবে কেন

বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ, এমনকি কিশোর বয়সীরাও টিকার আওতায় এসেছে। যাদের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর ছয় মাস পার হয়েছে, তাদের বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে। তারপরও দেশে সম্প্রতি কভিড সংক্রমণের হার বাড়ছে। অনেকেই হয়তো ভাবছেনÑতাহলে টিকা নিয়ে কী লাভ হলো?

টিকার বুস্টার ডোজ নিলে কভিড থেকে শতভাগ সুরক্ষা মিলবে, বিষয়টা এমন নয়। বিজ্ঞানীরা কখনও তা বলেনওনি। দেশে কভিডের যে টিকা দেয়া হচ্ছে, সেটি প্রথম ডোজের পর ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কার্যকর বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। আর দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর কার্যকারিতা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে করোনার অ্যান্টিবডি শরীরে ছয় থেকে ৯ মাস স্থায়ী হয় বলে ধারণা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা নেয়া ব্যক্তিদের কভিড হলেও হাসপাতালে ভর্তি, জটিলতা ও মৃত্যুর হার কম। করোনাভাইরাস পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়ে যায়নি। কখনও নির্মূল হবে কি না, তা-ও বলা কঠিন। তাই আর ১০টা ভাইরাস, যেমন ফ্লু, পক্স, ডেঙ্গু প্রভৃতির মতো এটি পরিবেশে রয়ে যাবে এবং বছর বছর বা নির্দিষ্ট সময় পরপর তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। ব্যাপকহারে টিকাদানের উদ্দেশ্য হলো সংক্রমণ হলেও যেন মৃত্যু বা জটিলতা না বাড়ে।

বুস্টার ডোজ নেয়ার পরও কেউ কভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। এজন্য টিকাকে দায়ী করছেন অনেকে। এটা ঠিক নয়। কারণ টিকা দেয়ার আগে কোনো ব্যক্তি কভিড সংক্রমিত কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে না। ফলে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তিকেও টিকা দেয়া হচ্ছে। টিকা নিতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে গিয়েও অনেকে সংক্রমিত হচ্ছেন। আবার যারা টিকা নিচ্ছেন, তারা অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না, যে কারণে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই তারা সংক্রমিত হচ্ছেন। কভিড আগে যেভাবে সংক্রমিত হতো, সেভাবেই সংক্রমিত হচ্ছে, এখানে বুস্টারের দোষ নেই।

শেষ কথা হলো, কভিডের টিকা নিলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। করোনা প্রতিরোধে টিকার বিকল্প নেই। টিকা নেয়া ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা অনেক কম। অদ্যাবধি টিকা নেয়া ব্যক্তির করোনা সংক্রমিত হওয়ার হার ১০ শতাংশ ও মৃত্যুহার এক শতাংশ।

দুটি ডোজ শেষ হওয়ার পর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে আরও তিন সপ্তাহ লাগে। তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজের ক্ষেত্রেও তা একই রকম। সে পর্যন্ত সতর্ক না থাকলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান

মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ