খবর দিনের খবর

টিকা চেয়ে দেয়া চিঠির জবাব দেয়নি সেরাম

নিজস্ব প্রতিবেদক; ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটকে আরও টিকার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে সেরামের পক্ষ থেকে এখনও কোনো জবাব দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল মঙ্গলবার অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড ডিপ্লয়মেন্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

অধ্যাপক সেব্রিনা বলেন, গত মার্চের শেষের দিকে সেরাম ইনস্টিটিউটকে আরও টিকার কথা জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরাসরি সেরামকে চিঠি দেয়নি। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা সেরাম ইনস্টিটিউটকে জানিয়েছে। তবে জবাব এখনও আসেনি।

এদিকে, গত ১ এপ্রিল আগামী কয়েক দিনের ভেতরে সেরাম থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী কোভিশিল্ডের পরবর্তী চালান আসবে বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সেদিন (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে টিকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা এমনটাই জানিয়েছে। আর পরবর্তী চালানে ২০ লাখের মতো ডোজ আসতে পারে, যোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বেক্সিমকোর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, দুই থেকে চার দিনের মধ্যে কিছু টিকা পেতে পারে। তারা (বেক্সিমকো) তো সেরামের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

‘আমাদের কন্ট্রাক্ট করা ভ্যাকসিন এগুলো। আমাদের টাকা-পয়সা পেইড করা ভ্যাকসিন না দেয়াটা সঠিক নয়,’ বলেন মন্ত্রী। ‘সেজন্য আমরা যা করার দরকার করছি, আমাকে জানানো হয়েছে, তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কিছু, হয়তো ২০ লাখের মতো ডোজ আমরা পাব,’ যোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ৫ নভেম্বর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় সেরাম তিন কোটি টিকা বাংলাদেশে রপ্তানি করবে বলে কথা রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিমাসে বাংলাদেশের ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা পাওয়ার কথা ছিল। এগুলো সেরামের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে টিকা এসেছে মোট এক কেটি দুই লাখ ডোজ।

এর মধ্যে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি আসে ২০ লাখ ডোজ। সরকারের অর্থে কেনা টিকার প্রথম চালানে ২৫ জানুয়ারি আসে ৫০ লাখ ডোজ। সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি আসে ২০ লাখ ডোজ। গত ২৬ মার্চ আসে ১২ লাখ ডোজ। অর্থাৎ, ভারত থেকে কেনা ও উপহার মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট টিকা এসেছে এক কোটি দুই লাখ ডোজ।

দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি চলছে। আগামী ৮ এপ্রিল টিকার দ্বিতীয় ডোজ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির ৩০ লাখ ও মার্চের ৫০ লাখ টিকা এখনও দেশে আসেনি। আর সম্প্রতি ভারত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তাতে করে টিকা নিয়ে শঙ্কা দেখা যায় দেশে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিজেও এ শঙ্কা থেকে গত ২৯ মার্চ বলেছিলেন, এই মাসে টিকার যে চালান আসার কথা ছিল, সেই টিকা আমরা পাইনি। সেটা যথাযথভাবে পাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানিয়েছেন।

মন্ত্রী সেদিন আরও বলেন, যে সংখ্যায় টিকা পাওয়ার কথা, তা যদি আমরা পেয়ে যাই, তাহলে আমাদের যে কার্যক্রম চলছে তা ব্যাহত হবে না। আর যদি টিকা না পাই, তাহলে স্বাভাবিকভাবে নতুন করে চিন্তা করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..