বিশ্ব সংবাদ

টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের কভিডে মৃত্যুর ঝুঁকি ১১ গুণ বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিড-১৯ টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুর ঝুঁকি যারা পুরো ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাদের তুলনায় ১১ গুণ বেশি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। করোনাভাইরাসের ‘ডেল্টা ধরন’ টিকা নেয়া ব্যক্তিদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেদ করতে পারলেও গুরুতর অসুস্থতা ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে সিডিসির এ প্রতিবেদনে। খবর: বিবিসি নিউজ।

সিডিসির পরিচালক ডা. রোশেল ভলেনস্কি সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দুই মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটের মধ্যে দেখা গেছে, যারা টিকা নেননি তাদের কভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাড়ে চারগুণ বেশি, হাসপাতালে ভর্তির সম্ভাবনা ১০ গুণ বেশি এবং মৃত্যুর শঙ্কা ১১ গুণ বেশি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে তিনটি সমীক্ষার ফল থেকে সংস্থাটি এসব তথ্য প্রকাশ করে। এসব তথ্য বলছে, সামনের দিনগুলোয় অনেকেরই বুস্টার ডোজ বা টিকার তৃতীয় ডোজ দরকার হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি অঞ্চলে পরিচালিত সিডিসির সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডেল্টা ধরনের বিস্তারের মধ্যে টিকার পূর্ণ ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার হার দেশজুড়েই বেড়েছে।

বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলে পূর্ণ ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের গত জুনের শেষ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু সমীক্ষায় টিকার পূর্ণ ডোজ নেয়া ব্যক্তিদের আক্রান্তের হার ১৮ শতাংশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়ে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সার্স-কোভ-২ ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে টিকার প্রতিরোধ ক্ষমতা অব্যাহতভাবে কমে আসছে।’

জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে পরিচালিত সিডিসির আরেক সমীক্ষায় দেখা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর হার ঠেকাতে ভালো কার্যকারিতা দেখাচ্ছে টিকা। কিন্তু সিডিসির প্রকাশিত নতুন তথ্যে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থতা ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে আসছে। কয়েকশ হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ক্লিনিকের জোট ‘ভিশন নেটওয়ার্ক’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে সিডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত আগস্ট মাসে ৭৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের হাসপাতালে ভর্তি ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা তরুণদের তুলনায় ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম’। নিজেদের তথ্য বিশ্লেষণ করে একই উপসংহারে পৌঁছেছে কয়েকটি ‘ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স মেডিকেল সেন্টার’। তাদের আনুমানিক হিসাব বলছে, ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সীদের হাসপাতালে ভর্তি ঠেকাতে টিকা ৮০ শতাংশ কার্যকর। দুটি সমীক্ষাতেই বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা আগের চেয়ে কমে আসছে।

সিডিসি এর আগে জানিয়েছিল, একটি দলের ওপর পরিচালিত জরিপে হাসপাতালে ভর্তি ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসতে দেখা গেলেও গত জুলাই মাসেও তা ৮০ শতাংশের বেশি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা কর্মকর্তারা দেশজুড়ে টিকার বুস্টার ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানানোর পর সিডিসির প্রতিবেদনে নতুন এসব তথ্য উঠে এলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ দপ্তর এখনও বুস্টার ডোজের অনুমোদন দেয়নি এবং সিডিসির টিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের প্যানেলও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুপারিশ এখনও করেনি।

চিকিৎসকরা বলছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ‘মডার্না’ ও ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’-এর বুস্টার ডোজের টিকার অনুমোদন দেয়ার বিষয়েও তারা আশাবাদী। তবে ওষুধ কোম্পানি দুটির টিকার পর্যাপ্ত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। অন্যান্য দেশের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে টিকার বুস্টার ডোজ দেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইসরাইলের উদাহরণ দেয়া হচ্ছে, যেখানে এরই মধ্যে বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..