প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

টুংটাং শব্দে মুখর বগুড়ার কামারপল্লি

পারভীন লুনা, বগুড়া :আর কদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র এ দিনটিকে পালন করে থাকেন। সামর্থ্যবানরা কোরবানির পশু কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে পশু কোরবানির হাতিয়ার তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকার বা কামার সম্প্রদায়ের লোকজন। দিন যাচ্ছে, তাদের ব্যস্ততা বাড়ছে। তৈরি করছেন রকমারি দা, চাকু, ছুরি ও বঁটি। সারাবছর কামারদের তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।

কৃত্রিম বাতাসের সাহায্যে লোহা গলিয়ে হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর গ্রামাঞ্চলের কামারপল্লি। কোরবানির পশু জবাই এবং চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে মাংস কাটতে প্রয়োজন রকমারি হাতিয়ার। লোহা দিয়ে তৈরি এসব হাতিয়ার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এখন থেকেই। গ্রামের কামারপল্লিতে তৈরি এসব হাতিয়ার হাটবাজার ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত চলবে দা, ছুরি, চাকু ও বঁটি বেচাকেনা।

বগুড়া শহরের ১, ২ ও ৩ নম্বর রেলঘুমটি, কাঁঠালতলা, চেলোপাড়া, কলোনিসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বেচাকেনা চলছে এসব সরঞ্জাম। তবে ঈদ উপলক্ষে দাম কিছু বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

মামুন নামের এক ক্রেতা বলেন, ঈদের আরও চার-পাঁচ দিন দেরি আছে। ঈদের আগের দিন কামারের দোকানে খুব ভিড় হয়, তাই আমি আগেই কিনতে এসেছি। আমার কাছে এবার আগের বছরের চেয়ে দাম বেশি মনে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে হাসান আলী নামের এক ক্রেতা জানান, কোরবানির ঈদের কিছুদিন বাকি, তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু ও বঁটির দাম একটু বেশি।

জানতে চাইলে কামার রণজিৎ দাশ বলেন, লোহা, কয়লা ও শ্রমিকের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় তাদের লাভ তেমন হচ্ছে না। আবার দামও বেশি পড়ছে। কিছুদিন আগেও প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। সেই কয়লা এখন ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাই আমরা চাপাতি, ছুরি ও দায়ের দাম একটু বেশি নিচ্ছি।

রণজিৎ দাশ বলেন, বাপ-দাদার পৈতৃক পেশা ধরে রেখেছি। সারাবছর কাজের চাপ থাকে না, যা লাভ এ ঈদ মৌসুমেই। এ ঈদে যা বিক্রি হবে, সেটা দিয়ে সংসারের খরচ করে থাকি।

বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি প্রতিটি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, দা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, বঁটি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা এবং চাপাতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।