দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

টেকসই উন্নয়নের মেরুদণ্ড আর্থিক অন্তর্ভুক্তি

আইসিসিবির এশিয়া প্যাসিফিক সম্মেলনে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাজের সব পর্যায়ের মানুষকে আর্থিক খাতে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। শুধু আর্থিক খাত নয়, সব পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে পারলে সমাজে বৈষম্য ও দারিদ্র্য কমে আসবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিই হচ্ছে টেকসই উন্নয়নের মেরুদণ্ড বলে আন্তর্জাতিক এক সেমিনারে মন্তব্য তুলে ধরেছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘দ্য এশিয়া প্যাসিফিক কনফারেন্স অন ফাইন্যান্সিং ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল পৃথক পৃথক অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তিন দিনের এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন দেশি-বিদেশি বিশেজ্ঞরা। একটি অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, একা কোনো সরকারের পক্ষেই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সরকার ও ব্যবসায়িক কমিউনিটি পারস্পরিক ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই শুধু এ অর্জন সম্ভব। সরকার বেশি বেশি প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য কাজ করছে, ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। ভারতের পর বাংলাদেশের তরুণরাই সবচেয়ে বেশি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিশ্বে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অনন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই অর্থায়ন শীর্ষক সেশনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সব মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় আনা না গেলে সব মানুষের টেকসই উন্নয়নে অংশীদার হওয়া নিশ্চিত করা যাবে না। এজন্য সরকার ডিজিটাল অর্থায়ন ব্যবস্থা তৈরিতে জোর দিয়েছে। সব পেশার সব মানুষকে ব্যাংক ব্যবস্থায় আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে।

আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, উন্নয়নের সুফল থেকে জনগোষ্ঠীর কোনো অংশই যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই এসডিজির প্রধান লক্ষ্য। এমসিসিআইয়ের সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের উন্নীত হওয়ার এ ক্রান্তিকালে আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে সরকারের নীতি-সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মীর আকতার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেশ ভালো করছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন আট শতাংশের ওপরে। দারিদ্র্যর হার ৪২ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশে নেমেছে। কিন্তু এ উন্নয়নে কী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নতি হয়েছে, বা উন্নয়নে ওই মানুষগুলের কী অবদান রাখতে পারছেÑএমন প্রশ্ন এখন উঠছে।

একটি সেশন চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মনজুর এলাহী। সেশনে বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, টেকসই উন্নয়নের মেরুদণ্ড হচ্ছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। সমাজের সবাইকে আর্থিক খাতে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার অধিকারকে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শিক্ষাই মানুষকে তার ভালোটি বেছে নেওয়ার ও তা অর্জনের শক্তি জোগায়, পথ দেখায়। তবে শিক্ষিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে এসডিজি লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। এ জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরিতে জোর দিতে হবে। তাছাড়া পরিবেশকে ঠিক রেখেই উন্নয়ন করতে হবে। সবার জন্য আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

ভুটানের রয়্যাল মনেটারি অথরিটির গভর্নর দেশো পাজেরো বলেন, উন্নয়নের সঙ্গে যদি সুখ অর্জনকে সম্পৃক্ত করা না যায়, তাহলে সে উন্নয়ন নিয়ে প্রকৃত অর্জন হয় না। তার দেশ এ মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই উন্নয়নের সব কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

সেমিনারে আলোচকরা বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে পারলে অনেক সমস্যাই সমাধান সম্ভব। এজন্য যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা দরকার। ব্রুনাইয়ের উদাহরণ দিয়ে বলা হয় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে কয়েক বছরের ব্যবধানে দেশটি আশাতীত উন্নয়ন করেছে বলে জানানো হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..