বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

টেকসই গবেষণায় শিল্প-শিক্ষা খাতের সমন্বয় জরুরি

ডিসিসিআই’র ওয়েবিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য টেকসই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় শিল্প-শিক্ষা খাতের সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তারা। ‘শিল্প-শিক্ষা খাতের সমন্বয়; নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত’ শীর্ষক ওই ওয়েবিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য শিক্ষা ও শিল্প খাতের বিদ্যমান মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে এবং একই সঙ্গে নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য টেকসই গবেষণা কার্যক্রমে শিল্প খাতকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ অপরিহার্য, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় মাফিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রস্তুতের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সক্ষম হবে।

তিনি উভয় খাতের বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিল্প খাতের দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি ম্যাপিং করা খুবই জরুরি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এবং এ সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের ‘শিক্ষা, শিল্প এবং গবেষণা’ ত্রিপক্ষীয় সমন্বয় বাড়ানো অপরিহার্য।

শিক্ষামন্ত্রী দেশের কারিগরি ও প্রযুক্তিভিক্তিক শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর জোরারোপ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যকার ব্যবধান বেশি, যা নিরসন এখন সময়ের দাবি।’ তিনি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে আরও বেশিহারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, শিল্প খাতের প্রয়োজনের নিরিখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব হলে, বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে, যার মাধ্যমে স্থানীয় মেধাবীদের কাজের সুযোগ বাড়বে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিকে কারিকুলাম প্রণয়নের আহ্বান জানান।

ওয়েবিনারের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেনÑড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধু প্রতি বছর গ্র্যাজুয়েট তৈরি করার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে বরং তারা শিক্ষাজীবনে কতটুকু দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে তার ওপর অধিক প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন।’

তিনি মনে করেন, শিল্প খাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সুদৃঢ় সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে শিল্প খাতের প্রয়োজনের নিরিখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সক্ষম হবে। 

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নতি ও এসডিজিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তন বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সর্বোপরি সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সূচনা হয়েছে।

চেম্বার সভাপতি জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে প্রায় ৬৩.৫ মিলিয়ন লোক নিয়োজিত রয়েছে এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন জনবল শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভের পরও শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে চাকরি পেতে বেশ প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিযোগী সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে আভির্ভূত হয়েছে।

নির্ধারিত আলোচনায় অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বুয়েটের ‘রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক তাহমিনা বিনতে মোস্তফা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএ’র পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..