কোম্পানি সংবাদ

টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য পুঁজিবাজারের বিকাশ জরুরি  

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য পুঁজিবাজারের বিকাশ জরুরি। দেশে শিল্প-বাণিজ্যের অর্থায়নে পুঁজিবাজারের অংশ মাত্র ১০ শতাংশ। বাকি ৯০ শতাংশ অর্থায়ন হয় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। অর্থনীতির জন্য এটি মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। আমাদের অর্থনীতির আকারের তুলনায় পুঁজিবাজার খুবই নগণ্য। ব্যাংকগুলো স্বল্প মেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করে। এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত ও উন্নয়নশীল অন্য দেশগুলোতে বিনিয়োগের বড় অংশই আসে পুঁজিবাজার থেকে। এমন মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস ফর ইকোনমিক রিপোর্টার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আজিজ বলেন, পুঁজিবাজারের টেকসই বিকাশের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে, আর্থিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। তিনি বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারের অনেক কোম্পানিরই পারফরম্যান্স তেমন ভালো নয়। কোম্পানিগুলো হয় মুনাফা করতে ব্যর্থ হচ্ছে, নয় এদের ম্যানেজমেন্ট ও উদ্যোক্তারা কোম্পানিকে লোকসানি দেখিয়ে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ যে হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে; সে হারে মানবসম্পদের উন্নয়ন হচ্ছে না। এশিয়ার ১২টি দেশের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনে পাকিস্তান ছাড়া সব দেশ থেকে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ মানবসম্পদ উন্নয়নে তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে রয়েছি আমরা। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাকে টেকসই করতে হলে মানবসম্পদ উন্নয়নে তাই আরও মনোযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক কোম্পানি আইপিও’র এক দুই বছর আগে থেকে কৃত্রিমভাবে মুনাফা বাড়িয়ে দেখায়। এ ধরনের প্রবণতা বন্ধে পাঁচ থেকে ১০ বছরের ব্যালান্সশিট পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৮০-৮৫ সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল তিন দশমিক আট শতাংশ। ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল পাঁচ দশমিক নয় শতাংশ। ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সময়ে এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছয় দশমিক দুই শতাংশ ছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছয় দশমিক নয় শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির সাবেক কমিশনার মো. আরিফ খান বলেছেন, যে দেশের পুঁজিবাজার যত বড়, সে দেশের অর্থনীতির আকার তত বড় হয়। একইসঙ্গে দেশের বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে পুঁজিবাজারকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে তার বিপরীত অবস্থা বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, লন্ডন, হংকংসহ দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে পুঁজিবাজারের অবস্থা এখনও অনেক ছোটো। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মাথা পিছু আয় ১৫শ ডলার। ২০২১ সাল নাগাদ এটি বেড়ে দুই হাজার ডলার হবে। মাথাপিছু আয় যত বাড়বে, বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা তত বাড়বে। তত বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হবে।

অনুষ্ঠানে ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা যত বাড়বে, তাদের বিনিয়োগ তত বেশি সুরক্ষিত হবে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোও চার্টার্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) সোসাইটি বাংলাদেশ ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক কমিশনার ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফ খান।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..