বাণিজ্য সংবাদ

টেরেস্ট্রিয়াল সম্প্রচারের প্রকল্পে ধীরগতি

বিটিভি চট্টগ্রাম

মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে টেরেস্ট্রিয়াল সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে সাড়ে তিন বছর আগে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল গণপূর্ত অধিদফতর। যথারীতি প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়, তবে শেষ হয়নি কাজ। এর ফলে বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের সময় ও ব্যয়। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার পেছনে টাওয়ার নির্মাণে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা এবং স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুমোদনে বিলম্ব হওয়াকে দায়ী করছে গণপূর্ত অধিদফতর। এতে ২৪ ঘণ্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচারে চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্ন আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট শিল্পীরা।

চটগ্রাম গণপূর্ত অধিদফতর-২ সূত্রে জানা যায়, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র পাহাড়তলীতে ট্রান্সমিটিং টাওয়ার ভবন নির্মাণ এবং ট্রান্সমিটিং যন্ত্রপাতি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদকাল ছিল গত ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।  প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে ভবন নির্মাণ, টাওয়ার, টাওয়ার ফাউন্ডেশন এবং কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ রাস্তার উন্নয়ন। প্রকল্পটি তিন ভাগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

১৮৪ কোটি ৯ লাখ টাকায় তিনতলাবিশিষ্ট ট্রান্সমিশন ভবন নির্মাণ, ৩৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায় সেলফ সাপোর্টিং টাওয়ার ফাউন্ডেশন স্থাপন এবং আট কোটি ২৬ লাখ টাকায় সেলফ সাপোর্টিং টাওয়ার নির্মাণ। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৫০০ বর্গফুট  জায়গায় তিনতলাবিশিষ্ট ট্রান্সমিশন ভবন নির্মাণ ও সেলফ সাপোর্টিং টাওয়ার ফাউন্ডেশন স্থাপনের কাজ করছে গণপূর্ত অধিদফতর। বর্তমানে তিনতলাবিশিষ্ট ট্রান্সমিশন ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ অংশে কাজ করছে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর সেলফ সাপোর্টিং টাওয়ার ফাউন্ডেশন স্থাপনের কাজ করছে এনটি এইচএমসিএল (জেবি)। বর্তমানে এ অংশের কাজের ৯০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে সেলফ সাপোর্টিং টাওয়ার ফাউন্ডেশন স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে চট্টগ্রাম গণপূর্ত অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে। এরপর এটি বিটিভি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে বিটিভি কর্তৃপক্ষের অধীনে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সেলফ সাপোর্টিং টাওয়ার নির্মাণের কাজ পেয়েছে চায়নার শনডং জাউই স্টিল টাওয়ার কোম্পানি। প্রকল্পের অন্য প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রের সাবস্টেশন আধুনিকায়ন, ছয় কোটি টাকায় দুটি ট্রান্সমিটার ক্রয় প্রভৃতি।

চটগ্রাম গণপূর্ত অধিদফতর-২ সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস অর্থাৎ আগামী ৩০ ডিসেম্বর  পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। ফলে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

টেরেস্ট্রিয়াল সম্প্রচারে গৃহীত প্রকল্পের কাজে ধীরগতির তদন্ত দাবি করেছেন চট্টগ্রামের প্রবীণ নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী। তিনি বলেন, ‘স্যাটেলাইটে খুব বেশি দেখা যায় না। টেরিস্ট্রিয়াল হলে মানুষ পরিপূূর্ণভাবে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র দেখবে। এটি খুব খুশির খবর। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে, সংশ্লিষ্টদের এটা তদন্ত করা উচিত। যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট দেওয়া হয়েছে, কাজ হওয়া উচিত। ধীরগতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. সায়েম ইবনে আকবর দৈনিক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘চায়নার শেনডং জাউই স্টিল টাওয়ার কোম্পানি প্রদত্ত টাওয়ারের স্ট্রাকচারার ডিজাইন বুয়েট থেকে ভেটিং করা হয়েছে। আর এতে সময় লেগেছে প্রায় ১১ মাস। এ জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়া। এ পর্যন্ত প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ৮০ শতাংশ এবং ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে আর্থিক অগ্রগতি শতভাগ হবে। তবে ভৌত অগ্রগতি শতভাগ হতে হতে আরও এক-দেড় মাস বাড়তি সময় লাগতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচারের সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর যাত্রার পর থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র জাতীয় সম্প্রচারের মুখ দেখেনি এক যুগেও। ২০০৮ সাল থেকে বিটিভির জাতীয় সম্প্রচারে মাত্র ৩০ মিনিট পায় সিটিভি। এর আগ পর্যন্ত কেবল আঞ্চলিকভাবেই সম্প্রচারিত হতো এর অনুষ্ঠানমালা। যাত্রার ২০ বছর পর ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছয় ঘণ্টার স্যাটেলাইট চ্যানেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..