সম্পাদকীয়

টেলিটকের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা গ্রহণযোগ্য নয়

দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরদের মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক। সরকারি সুবিধা পেয়েও প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারছে না বলে টেলিটকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কখনও নেটওয়ার্কে সমস্যা, কখনও কল ড্রপ, কখনও-বা কম গতির ইন্টারনেট প্রভৃতি কারণে এটির প্রতি গ্রাহকের আগ্রহ কম। এখন এ অপারেটরের সিম সবচেয়ে বেশি ব্যবহƒত হচ্ছে অবৈধ ভিওআইপি সংযোগ স্থাপনে; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারায়। গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত সংবাদ পাঠককে হতাশ করবে বৈকি।

২০০৪ সালে ২৬ ডিসেম্বর টেলিটকের যাত্রা। ধারণা ছিল, গ্রাহকদের উন্নতমানের পণ্য ও টেলিকমসেবা দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা রোধেও ভূমিকা রাখবে টেলিটক। সিম বিক্রির প্রথম দিন মানুষের ভিড় ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও তৎপর হতে হয়। টেলিটকের সেøাগান ‘আমাদের ফোন’। কিন্তু টেলিটক তা হতে পেরেছে বলে দাবি করার সৎসাহস দেখাতে পারবেন না এর কর্তাব্যক্তিরা।

সাধারণ মানুষের অভিমত, বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কোনোভাবেই পেরে উঠছে না টেলিটক। অথচ টেলিটকের লক্ষ্য ছিল, সর্বস্তরের মানুষের কাছে ফোনসেবা পৌঁছে দেওয়া, সরকারি-বেসরকারি খাতে সমপ্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা। লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিলেও টেলিটক গ্রাহক ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। 

গ্রাহক চাপ সামাল দিতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং সেবা আধুনিকায়ন করছে, সেখানে টেলিটক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এখন সরকারি চাকরির ফি, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ভর্তি ফি আদায় বাবদ পাওয়া কমিশন টেলিটকের আয়ের প্রধান উৎস। ‘দেশের টাকা দেশে রাখুন, টেলিটক ব্যবহার করুন’ সেøাগানেও সাধারণ মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে না।

টেলিটকের কর্তাব্যক্তিরা হাল ছেড়ে দিয়েছেন, এ কথা স্পষ্ট করে বলা না গেলেও তেমন কথা উঠতেও পারে। এ ধরনের মন্তব্য করার সুযোগ হবে গতকাল শেয়ার বিজের ‘অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় শীর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক’ শীর্ষক প্রতিবেদন দেখে। এতে বলা হয়, অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহƒত হওয়ায় চার বছরে টেলিটকের ৯৭ হাজার সিম জব্দ হয়েছে।

সর্বোচ্চ সতর্কতা, সর্বশেষ প্রযুক্তি সত্ত্বেও ভিওআইপি ব্যবসা বেড়ে যাচ্ছে, এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিব্রত করবে। মোবাইল ফোনভিত্তিক অপরাধ বন্ধ করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করা হলেও অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে কীভাবে? এতে দেশ রাজস্ব হারায়, আইন মেনে ব্যবসা করা আইজিডব্লিউ কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি অপ্রত্যাশিত। সেবাপ্রাপ্তির খরচ, গুণগত মান, সেবাকেন্দ্রের সুবিধা, প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়িয়ে টেলিটককে লাভজনক করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..