Print Date & Time : 28 September 2020 Monday 8:47 am

টেলিনর গ্রুপের জরিপ: সাইবার বুলিং নিয়ে এশিয়ার ভাবনা

প্রকাশ: February 8, 2017 সময়- 11:55 am

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল বুলিংয়ের ধরন, তরুণ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব ও তরুণরা কীভাবে ডিজিটাল বুলিং মোকাবিলা করছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে ‘নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস ২০১৭’তে সাইবার বুলিং নিয়ে পরিচালিত একটি জরিপের ফল প্রকাশ করেছে টেলিনর গ্রুপ। প্রধানত বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের ৩২০ প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে জরিপটি ফেসবুকে পরিচালিত হয়, যদিও সব দেশেই সাইবার বুলিং ঘটছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, তারা তরুণদের সঙ্গে সাইবার বুলিং নিয়ে আলোচনা করেন এবং তারা মনে করেন ক্রমেই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে। এটা তাদের ডিজিটাল মাধ্যমে অশালীন আচরণ প্রতিহত করতে ও ভুক্তভোগীদের অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা পোষণে সহায়তা করবে। ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ফেসবুক ব্যবহারকারী যাদের অভিভাবকত্ব, পারিবারিক সমস্যা, শিশুকল্যাণ ও অনলাইনে নিরাপত্তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে জরিপটি পরিচালিত হয়।
এ নিয়ে টেলিনর গ্রুপের সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ডিরেক্টর জয়নাব হুসাইন সিদ্দিকী বলেন, ‘ডিজিটাল বুলিংয়ের বর্তমান অবস্থা ও এর বিস্তার, ডিজিটাল বুলিং এশিয়ার শিশুদের ওপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েই এ ব্যাপারে কী করতে পারে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস উপলক্ষে আমরা এ ডিজিটাল জরিপ পরিচালনা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে উৎসাহব্যঞ্জক বিষয় হচ্ছে, এশিয়াজুড়ে আমরা সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির অনেক প্রয়াস লক্ষ করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানসহ অনেকেই এ নিয়ে শিশু, বাবা-মা ও বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। আমরা আশা করছি, এটা অনলাইনে দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
কীভাবে এবং কোন চ্যানেলের মাধ্যমে অনলাইনে অশোভন কার্যক্রম ঘটতে পারে, কীভাবে এটা সংঘটিত হয় এবং কীভাবে এর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে হয়, এসব শিশুকে বোঝানোর প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে আলোচনা। জরিপের প্রাপ্ত ফলাফলে ইতিবাচক অবস্থা নির্দেশ করছে। জরিপে উত্তরদাতাদের বেশিরভাগ (৪৬ শতাংশ) জানিয়েছেন, তারা ইন্টারনেট ও অনলাইনে আচরণ নিয়ে সবসময়ই তাদের সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন। ৩৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মাঝে মাঝে তাদের সন্তানদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। মাত্র ১২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা কখনোই তাদের সন্তানদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি। এশিয়ার প্রাপ্তবয়স্কদের একটা বড় অংশ মনে করে, তারা অনলাইনে তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে অবগত এবং যথেষ্ট সচেতন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ সাইবার বুলিংয়ের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে বেশিরভাগই শত্রুভাবাপন্ন, বিরূপ মন্তব্য ও অনলাইনে অবমাননাকর উক্তি এ ধরনের সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে। উত্তরদাতাদের আরেকটা বড় অংশ জানিয়েছেন, তারা জানেন না তাদের সন্তানদের তালিকাভুক্ত কোনো সাইবার বুলিংয়ে শিকার হওয়ার ঘটনার কথা। এরপর উত্তরদাতাদের আরেকটি বড় অংশ জানিয়েছে, সাইবার বুলিং নিয়ে তাদের সন্তানদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে এবং এ অবস্থার শিকার হলে তারা (সন্তানরা) কী করবে এটা জানার কারণে শিশুরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়নি।
সাইবার বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা সন্তানদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তরদাতা অভিভাবকরা বিভিন্ন উত্তর দিয়েছেন, অনেকক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক নানা উত্তরও এসেছে। তারা জানিয়েছেন, শিশুরা কীভাবে অনলাইন বুলিংয়ের মোকাবিলা করবে এবং কী করে এটায় আক্রান্ত না হয়ে অগ্রাহ্য করবে, এ বিষয়ে জানা শিশুদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, সাইবার বুলিং শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তারা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হতাশায় ভোগে। ২৪ শতাংশ জানিয়েছেন, এ অবস্থা শিশুদের আরও অনেক সাবধানী করে তোলে এবং তারা নিজেদের অনলাইনে আত্মরক্ষা করতে শেখে।