প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

টেসলার ৭০০ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: টেসলার ৭০০ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রি করেছেন এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। টুইটারের সঙ্গে চার হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ক্রয়চুক্তি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এমন পদক্ষেপ নিলেন তিনি। খবর: এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, ৫ থেকে ৯ আগস্টের মধ্যে প্রায় ৭৯ লাখ শেয়ার বিক্রি করেছে বৈদ্যুতিক গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। ৪ আগস্ট অস্টিনে শেয়ারহোল্ডারদের বার্ষিক বৈঠক ডাকেন টেসলা কর্ণধার। এর আগে এপ্রিলে ৯৬ লাখ শেয়ার বিক্রি করে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৮৫০ কোটি ডলার) ডলার তহবিল সংগ্রহ করেন মাস্ক। প্রায় চার মাস পর আবার টেসলার শেয়ার বিক্রি করলেন।

টুইটারের এ পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিয়েছেন মাস্ক। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে একটি পাল্টা মামলা করেন তিনি। অভিযোগে মাস্ক বলেন, তিনি চার হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটারের শেয়ার ক্রয়ে সম্মত হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ের মূল দিকগুলো সম্পর্কে তাকে বিভ্রান্ত করেছে। টুইটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রকৃত অ্যাকাউন্টের বিপরীতে কতগুলো স্প্যাম ও বট অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সে তথ্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে না, এ অভিযোগ করে মাস্ক এই চুক্তি থেকে সরে আসেন। চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে টুইটার ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে মামলা করে।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনি ব্যক্তি ইলন মাস্কের ফাইলিংয়ে শেয়ার বিক্রির কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে টুইটারে তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন, টেসলার শেয়ার বিক্রি শেষ হয়েছে কি না, যার উত্তরে তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন। পরে মাস্ক এক টুইট বার্তায় বলেন, টুইটার চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করার সময় এবং কয়েকজন অংশীদার এগিয়ে না আসায় জরুরি ভিত্তিতে টেসলার শেয়ার বিক্রি এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ার ক্রয়ে গত এপ্রিলে করা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার প্রচেষ্টার জন্য ইলন মাস্কের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে নামে টুইটার। আদালত আগামী অক্টোবরে এ বিষয়ে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দিয়েছেন। টুইটার আশা করছে, আদালত প্রতি শেয়ার ৫৪ দশমিক ২০ ডলারে কেনার জন্য ইলন মাস্ককে নির্দেশনা দেবেন।

টেসলায় মাস্কের ২১ বিলিয়ন (দুই হাজার ১০০ কোটি ডলার) ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া টেসলায় থাকা তার শেয়ারের বিপরীতে আরও ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন (১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার) ডলারের ঋণ রয়েছে।

চলতি বছর এ পর্যন্ত টেসলার শেয়ার ২০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। তবে জুলাইয়ে

আয়-ব্যয়ের আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশের পর ১৪ শতাংশ মূল্য পুনরুদ্ধার করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। এবার শেয়ারপ্রতি ৮৬৯ ডলার দাম পেয়েছেন মাস্ক। এপ্রিলে টেসলার শেয়ারের গড় মূল্য ছিল ৮৮৩ ডলার। ২০২১ সালে শেয়ার বিক্রির সময় তিনি গড়ে এক হাজার ৪৬ ডলার করে আয় করেছিলেন। সে সময় ব্যক্তিগত আয়কর পরিশোধের জন্য তিনি এই শেয়ারগুলো বিক্রি করেন। তবে স্পেস এক্সের সিইও মাস্ক এখনও টেসলার ১৫ কোটি ৫০ লাখ শেয়ারের মালিক। এছাড়া তার হাতে হ্রাসকৃত মূল্যে আরও ১০ কোটি শেয়ার কেনার সুবিধাও (শেয়ার অপশন) রয়েছে। অর্থাৎ হাতে থাকা শেয়ার ও কেনার সুযোগ রয়েছে, এমন শেয়ার মিলিয়ে টেসলার মোট শেয়ারের ২০ শতাংশ এখনও ইলন মাস্কের নিয়ন্ত্রণে।

এদিকে মন্দার ঝুঁকি বাড়লেও টেসলা ও অন্যান্য ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা এখনও বাড়ছে এবং এ শিল্পে মন্দা দেখা দেয়ার লক্ষণও সেভাবে দেখা যায়নি। তবে করোনাভাইরাসের লকডাউন উঠে যাওয়ার পর এখনও টেসলা চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত কারখানায় উৎপাদন শুরু করতে পারেনি।