সম্পাদকীয়

টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য পেতে কাঠামোয় পরিবর্তন আনুন

১৯৯৭ সালে ওয়ানডে এবং ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে বাংলাদেশ। উভয় ফরম্যাটের খেলায় দুই দশক পার হলেও এখনও বড় দলগুলোর ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা সাফল্যের দেখা পেলেও টেস্টে প্রায় প্রতিটি ম্যাচে লজ্জাজনক হার উপহার দিচ্ছেন ক্রিকেটাররা। হালের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও আফগানিস্তানের মতো দলের নিকটও ধরাশায়ী হওয়ার নজির রয়েছে। স্বীকৃতি পাওয়ার এত বছর পর এসেও ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্স অগ্রহণযোগ্য। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দীর্ঘদিনের স্পিন নির্ভরতা কমিয়ে কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সংস্কারের মাধ্যমে ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য সুনিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

গতকালের শেয়ার বিজে ‘লড়াইয়ের মানসিকতাও দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ’ শিরোনামে খবর ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারতীয় পেস আক্রমণে শুরুতেই নড়ে যায় টপঅর্ডার। পরে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ইন্দোর টেস্টের দুদিন বাকি থাকতেই বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ও ১৩০ রানের বিশাল ব্যবধানে। টেস্টে এভাবে নাকানি-চুবানি খাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বড় দলের বিপক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই এমন পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছেন তারা। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার দুই দশক পরেও এমন বাজে ফল গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দুরবস্থা থেকে বের করে আনতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নানা সংকট রয়েছে। বড় সমস্যা ক্রিকেটারদের খেলার মানসিকতায়। চলতি ভারত সফরে এগুলো নিয়ে কথা উঠেছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, টেস্ট খেলার মানসিকতা কিংবা জয়ের জন্য খেলার আগ্রহ ছিল না ক্রিকেটারদের। অথচ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার এতদিনে প্রতি ম্যাচেই জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কথা তাদের। কিন্তু ঘটছে তার উল্টোটা। মাঠে নামার আগেই পরাজয়ের মানসিকতা পেয়ে বসছে তাদের, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশা বাড়াচ্ছে।

উপমহাদেশের ক্রিকেট দলগুলো বরাবরই স্পিননির্ভর, বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে শুধু স্পিনে নির্ভর করে ক্রিকেটে টিকে থাকার সুযোগ ফুরিয়ে এসেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতও এখন স্পিননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে শক্তিশালী পেস আক্রমণ গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশকেও এ থেকে শিক্ষা নিয়ে সব ধরনের বোলিংয়ে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি দক্ষতা বাড়াতে হবে ব্যাটসম্যানদের। তবে ক্রিকেটারদের মানসিকতায় পরিবর্তন না এলে সাফল্য অধরা থেকে যাবে। সে জন্য তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করে জয়ের জন্য ক্ষুধা তৈরি করতে হবে। রাজনৈতিক কিংবা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে ক্রিকেটকে। এছাড়া সাফল্য পেতে হলে ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বড় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..