বিশ্ব বাণিজ্য

ট্রাম্পের হুঙ্কার বনাম চীনের হুমকি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ বেইজিংয়ে দুই দিনব্যাপী আলোচনায়ও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি তারা। এর মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ উসকে দিয়ে আরও চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বেইজিংও। তবে এ সমাস্যা সমাধানে ফের আলোচনায় বসতে রাজি দুই পক্ষই। খবর: বিবিসি ও রয়টার্স।
ওয়াশিংটনে যাওয়া চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজার জানান, ‘চীনের বাকি সব পণ্যের ওপরে শুল্ক বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।’ এর পরই চীন হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এ পথে হাঁটলে পাল্টা জবাব দেওয়ার পথে হাঁটবে তারাও। তবে এরই মধ্যে সারা বিশ্বকে কিছুটা স্বস্তি জুগিয়ে ফের আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়েছে দু’পক্ষই। পরের দফার বৈঠক সম্ভবত বেইজিংয়ে।
গত সেপ্টেম্বরে ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত ৫ মে ট্রাম্পের হুমকি ছিল, ১০ মে থেকে ওই হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘চীনের যেসব পণ্যে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক বসে তা বেড়ে হচ্ছে ২৫ শতাংশ। এছাড়া এখনও যুক্তরাষ্ট্রের আসা ৩২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক বসেনি, শিগগিরই ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসবে সেখানেও।’ সে অনুযায়ী গত শুক্রবার থেকে শুল্কের হার বেড়েছে ওই ২০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে।
এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় হুমকিও কার্যকর করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, নতুন করে শুল্ক চাপবে আরও প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে। সে ক্ষেত্রে মোবাইল, কম্পিউটার, জুতাসহ বাকি প্রায় সব চীনা পণ্যই চলে আসবে মার্কিন শুল্কের আওতায়।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বিপুল। অর্থাৎ বেইজিং থেকে ওয়াশিংটনে রফতানির তুলনায় ওয়াশিংটন থেকে বেইজিংয়ে রফতানি অনেক কম। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন বদলা নিতে নতুন করে আরও সর্বোচ্চ এক হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে শুল্ক চাপাতে পারে চীন। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের আশঙ্কা, সমাধান না এলে মার্কিন বিনিয়োগ ও ব্যবসার রাস্তাতেও বাধার দেওয়াল তুলতে পারে বেইজিং। কঠিন হতে পারে সে দেশে মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা করা।
কিন্তু ট্রাম্প এসব কথায় কান দিতে নারাজ। তার কথায়, ‘দীর্ঘদিন চীনের সঙ্গে অসম বাণিজ্যে বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলার করে হারিয়েছি, আর নয়।’ আর নিজের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ দেশেই পণ্য তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ঋণ পেতে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে পাকিস্তান

শেয়ার বিজ ডেস্ক

ভেঙে পড়া অর্থব্যবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান। সংস্থাটির কাছে বেইল আউট প্যাকেজের জন্য আবেদন করেছিল দেশটি। কিন্তু সংস্থাটির সঙ্গে এখনও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি পাকিস্তান। তবে হাল ছাড়তে রাজি নয় দেশটি। গতকাল রোববার দেশটির অর্থমন্ত্রী আসাদ উমার বলছেন, তারা সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। খবর: ইকোনমিক টাইমস।
ঋণ বিষয়ে আলোচনার জন্য আইএমএফের প্রতিনিধিদল গত ১ মে ইসলামাবাদে পৌঁছায়। গত শুক্রবার আলোচনা শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং ওই দিন রাতেই প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ ত্যাগ করার কথা ছিল। কিন্তু কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় এ কর্মসূচির পরিবর্তন হবে বলে সূত্র জানিয়েছে এবং পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীও জানিয়েছেন তারা সংস্থাটির সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
পাকিস্তানের জন্য বেইল আউট প্যাকেজ প্রস্তুতও করছে আইএমএফ। ঋণের আকার হতে পারে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি দেশটির সঙ্গে সংস্থাটির অনেক মতভেদ দূর হয়েছে। আসাদ উমার জানিয়েছেন, এরই মধ্যে চীনের ঋণ বিষয়ে আইএমএফকে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইসলামাবাদ।
উল্লেখ্য, ভেঙে পড়া অর্থব্যবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আইএমএফের কাছে মোটা অঙ্কের আর্থিক সহায়তা চেয়েছিল দেশটি। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের তিনজন প্রভাবশালী নেতা। তাতে পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিরোধিতা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, চীনের কাছে বিপুল অর্থের দেনা পাকিস্তানের। আইএমএফের অর্থ দিয়ে ওই দেনা মেটানো হতে পারে।
সম্প্রতি চীনের সঙ্গে ৬২০ কোটি ডলারের বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। বেইজিং এরই মধ্যে ইসলামাবাদকে সাড়ে ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ দিয়েছে। এছাড়া চীন আরও ২০০ কোটি ডলার পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে জমা রেখেছে।
আইএমএফ থেকে পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ৫ এপ্রিল মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উদ্দেশে চিঠি লেখেন কংগ্রেসে তিন নেতা টেড ইয়োহো, অমি বেরা ও জর্জ হোল্ডিং। তারা জানান, ‘চীন-পাকিস্তান করিডরের প্রকল্পের আওতায় পাকিস্তানে প্রায় ছয় হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে চীন। অথচ কীভাবে ওই অর্থ শোধ হবে, করিডর থেকে আয়ের অর্থই বা কার ভাগে কতটা যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে চীনের কাছে দেনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে পাকিস্তানের। তাই আইএমএফের অর্থে পাকিস্তান সরকার চীনের দেনা শোধ করতে পারে বলে আশঙ্কা আমাদের।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..