শেয়ার বিজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) তাদের অনলাইন ট্রেডিং সিস্টেম এবং ইনস্ট্যান্ট ওয়াচ মার্কেট সার্ভিল্যান্স সিস্টেম (আইডব্লিউএমএসএস) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সার্ভিল্যান্স সিস্টেমের সঙ্গে সিএসইর আপগ্রেডকৃত সিস্টেমের ডেটা সংযোগ নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছে।
তবে পুঁজিবাজারে নজরদারি কার্যক্রম ব্যাহত না হওয়ার শর্তে বিএসইসি সিএসইকে আপগ্রেড করার অনুমতি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ডাউন স্ট্রিম গেটওয়ে (ডিএসজি) ইন্টারফেসে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে আপগ্রেডের পর সরাসরি ট্রেডিং ডেটা পাওয়া নাও যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কমিশন একটি অন্তর্বর্তী সমাধান প্রস্তাব করেছে। আপগ্রেড ও সফটওয়্যার সংশোধনের মধ্যবর্তী সময়ে বিএসইসির কর্মকর্তারা সরাসরি সিএসইর সার্ভিল্যান্স সিস্টেম ব্যবহার করে তদারকি করবেন।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের অধীন সার্ভেইল্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিএসই কর্তৃপক্ষ তাদের অনলাইন ট্রেডিং ও সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম আপগ্রেড করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আপগ্রেড করা সিস্টেমে ডাউন স্ট্রিম গেটওয়ে (ডিএসজি) ইন্টারফেসে কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে। এর ফলে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংশোধন না করা পর্যন্ত আপগ্রেডের পর বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমে সিএসইর ট্রেডিং ডেটা সরাসরি পাওয়া নাও যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে নজরদারি কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য একটি অন্তর্বর্তী সমাধান প্রস্তাব করেছে কমিশন। এ সমাধান অনুযায়ী, আপগ্রেডেশন ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংশোধনের মধ্যবর্তী সময়ে বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগের কর্মকর্তারা সরাসরি সিএসইর সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম ব্যবহার করে পুঁজিবাজার তদারকি করবেন।
শর্তের বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নতুন সফটওয়্যার চালু করার আগে কয়েকটি পূর্বশর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে প্রথমত, বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য সিএসইকে বিস্তৃত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে, যাতে তারা সিএসইর সার্ভেইল্যান্স সফটওয়্যারের কার্যক্রম সম্পর্কে পুরোপুরি অভ্যস্ত হতে পারেন। দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যার মাধ্যমে বিএসইসির কর্মকর্তারা সিএসই ও বিএসইসির মধ্যে বিদ্যমান নেটওয়ার্ক সংযোগ ব্যবহার করে দূরবর্তীভাবে সিএসইর সার্ভারে প্রবেশ করে কাজ করতে পারবেন। এ ব্যবস্থা বিএসইসির কার্যালয়ে বাস্তবায়নের আগে এর পূর্ণ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সিএসই ও বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু সঠিকভাবে কাজ করলে সিএসই তাদের সার্ভেইল্যান্স সফটওয়্যার বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগের কম্পিউটারগুলোতে ইনস্টল করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা ইউজার আইডি তৈরি করবে। পরে বিএসইসি কর্মকর্তারা সিএসইর স্থাপিত ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের (ভিপিএন) মাধ্যমে নিরাপদভাবে নিজ নিজ ব্যবহারকারী আইডি ব্যবহার করে তাদের সার্ভিল্যান্স কম্পিউটার থেকে সিএসইর সিস্টেম ব্যবহার করবেন। সিএসইর আইটি বিভাগ প্রয়োজনীয় সব কারিগরি ব্যবস্থা ও সহায়তা প্রদান করবে।
এছাড়া বিকল্প ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেছে কমিশন। সিএসইকে তাদের সিস্টেম ভেন্ডরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমন সমাধান বিবেচনা করতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের ইনস্ট্যান্ট ওয়াচ মার্কেট সার্ভিল্যান্স সিস্টেম পরিবর্তন ছাড়াই আগের মতো বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমে ট্রেডিং ডেটা সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু নজরদারি নিশ্চিত করতে বিএসইসির এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্যেও নজরদারি কার্যক্রম সচল রাখতে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের এ কঠোর অবস্থান পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, ট্রেডিং ও সার্ভিল্যান্স সিস্টেমের আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কার্যক্রম চালু করতে চাই। তাই নতুন প্রোডাক্টের আগে সিস্টেম আধুনিকায়ন করা জরুরি।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post