সম্পাদকীয়

ট্রেনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সুশাসন নিশ্চিত করুন

বিনা ভাড়ায় রেল ভ্রমণের দায়ে প্রায়ই জরিমানার খবর গণমাধ্যমে আসে। তাতেও থামছে না বিনা টিকিটের যাত্রীদের দৌরাত্ম্য। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রেলমন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী রেলের অনিয়ম-কালোবাজারির কথা স্বীকার করেন। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য নিজের গাড়িচালকের দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ‘টিকিট কাটতে গেলে টিকিট পাওয়া যায় না, কিন্তু দেখা যাচ্ছে ট্রেনে সিট খালি থাকছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। আমরা মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত। 

দীর্ঘস্থায়ী, নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যাতায়াতে ট্রেন মানুষের প্রথম পছন্দ। সড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট থাকায় গত কয়েক বছরে রেলওয়ের যাত্রী নিয়মিত বাড়ছে। তবে বিনা টিকিটেও ভ্রমণ বাড়ছে। এটিও সবাই জানেন, এখন মন্ত্রীও স্বীকার করলেন। তাই আশা করা যায়, বিনা টিকিটের ভ্রমণ বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জোরদার করা হবে।

বিনা টিকিটের যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় টিকিটধারী যাত্রীরা রেলভ্রমণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় বিনা টিকিটের যাত্রীর চাপে আসনে ঠিকমতো বসতে পারেন না টিকিটধারী যাত্রীরা। ভিড়ের কারণে সঙ্গে থাকা ব্যাগও খোয়ান অনেকে।

বিনা টিকিটের যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত আয় করতে পারছে না রেলওয়ে। অথচ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ট্রেনের আয় বেড়ে চলেছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ট্রেনে কামরাপ্রতি অ্যাটেনডেন্ট ও ট্রেন টিকিট এক্সামিনার (টিটিই) থাকে। অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে উদাসীনতার অভিযোগ বিস্তর। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ট্রেনে অ্যাটেনডেন্টরা প্রতি কামরায় সব যাত্রীর টিকিট চেক করে। অথচ রেলওয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অনেক ট্রেনেই টিটিই থাকে না। মন্ত্রী বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করলে অনিয়ম কমবে। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব তো সরকারকেই নিতে হবে।

টিকিট ছাড়া কোনো ব্যক্তির প্ল্যাটফর্মে ঢোকারই কথা নয়। প্ল্যাটফর্ম টিকিট কাটার ব্যবস্থা চালু আছে অনেক আগে থেকে। স্টেশনের প্রবেশপথে নিয়োজিত কর্মীদের অনুপস্থিতি কিংবা তাদের যোগসাজশ ছাড়া তো টিকিটবিহীন ব্যক্তি প্ল্যাটফর্মেই থাকতে পারে না।

ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রী প্রতিরোধ এবং প্রবেশ ও বহিরাগমন গেটগুলোয় টিকিট চেকিংয়ে পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৭ সালে। বলা হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা পাঞ্চ মেশিনের মাধ্যমে স্টেশনে প্রবেশ করবেন ও বের হবেন; কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। বিনা টিকিটের ভ্রমণ ঠেকাতে জরিমানার পরিমাণও বাড়ানো দরকার এবং তা যথাযথভাবে আদায় করাও জরুরি। সুশাসন নিশ্চিত করলে ট্রেনে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সেটিই করতে হবে আগে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..