প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রিতে যেন যাত্রী দুর্ভোগ না বাড়ে 

ট্রেনে ফের স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আসলে স্ট্যান্ডিং টিকিট বলতে কিছু নেই। আসনসংখ্যার অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি হলে সেটি ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের টিকিটে আসন নম্বর উল্লেখ থাকে না।

সম্প্রতি রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা তিন যাত্রীকে জরিমানা করে বরখাস্ত হন এক ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার (টিটিই)। অবশ্য তাকে পুনর্বহাল করা হয়। ট্রেনে নিয়মিত টিকিট যাচাইয়ে টিটিই তিন যাত্রীর কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তারা টিকিট না থাকার কথা জানিয়ে নিজেদের রেলমন্ত্রীর আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। দায়িত্ব পালন করায় এক রেলকর্মীকে বরখাস্ত করায় তা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়।

রেলে যাত্রীদের ভ্রমণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে স্ট্যান্ডিং টিকিট ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এখন ফের স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্তকে যাত্রীরা ভালোভাবে নেবেন না। যাত্রীদের অভিযোগ, স্ট্যান্ডিং টিকিট বেশি বিক্রি হলে রেলের ভেতর যাত্রীরা স্বস্তিবোধ করেন না। অনেক সময় আসনবিহীন যাত্রীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আসন দখল করেন, প্রকৃত যাত্রীকে হেনস্তা করেন। যেমন বিনা টিকিটের যাত্রীরা খোদ  টিটিইকে ‘নেশাগ্রস্ত’ বলে দাবি করেছেন।

আমাদের রেল যোগাযোগ যত উন্নত আর আধুনিক হোক না কেন সব যাত্রীকে রেলে ভ্রমণের সুযোগ দেয়া সম্ভব নয়। কভিড মহামারির কারণে দুই বছর বন্ধ রাখার পর ফের আন্তঃনগর ট্রেনে আসনের অতিরিক্ত ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ বিক্রির সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। কেননা ‘এখন স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকলেও অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু তারা ভাড়া দিচ্ছেন না। রেলকর্মীরা টিকিটবিহীন যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। টিকিট ছাড়াই উঠে যান। জরিমানা করতে গেলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আবার স্ট্যান্ডিং টিকিট বন্ধ রাখায় জরুরি প্রয়োজনে বৈধভাবে ট্রেনে যাত্রার সুযোগ হচ্ছে না অনেকের। তাতে বিনা টিকিটের যাত্রী আবার বাড়ছে, আর তাতে ট্রেনের কিছু কর্মীর পকেট ভরছে। স্ট্যান্ডিং টিকিটধারীদের আধিক্যের কারণে যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘিœত না হয়, সেটিও লক্ষ রাখতে হবে। রেলের আয়ও যাতে বাড়ে এবং যাত্রীরাও যেন উপকৃত হন। অত্যধিক স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রিতে যেন রেলভ্রমণ ঝামেলার ও অনিরাপদ না হয়ে ওঠে।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, সন্দেহ নেই। সড়কপথে দুর্ঘটনা, যানজটসহ বিভিন্ন কারণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রেন ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এদিকে আবার বিনা টিকিটের যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত যাত্রীরা রেলভ্রমণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় বিনা টিকিটের যাত্রীর চাপে আসনে ঠিকমতো বসতে পারেন না টিকিটধারী যাত্রীরা। ভিড়ের কারণে সঙ্গে থাকা ব্যাগও খোয়ান অনেকে। ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রী প্রতিরোধ এবং প্রবেশ ও বহিরাগমন গেটগুলোয় যথানিয়মে টিকিট চেকিং করা গেলে স্ট্যান্ডিং টিকিট রেলের আয় বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি। সব বিবেচনায় নিয়ে প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।