প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঠাকুরগাঁওয়ের পশুহাটে বিকিকিনি বাড়ছে

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: ঈদুল আজহার বাকি মাত্র কয়েক দিন। ঠাকুরগাঁওয়ে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুহাট। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় গরুর দাম কিছুটা কমে গেছে। এতে হতাশাগ্রস্ত খামারি ও কৃষকরা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রখর রোদ, বৃষ্টি, গরমের মধ্যেই হাটে পশু বেচাকেনা হচ্ছে। জেলার লাহিড়ী, মাদারগঞ্জ, খোচাবাড়ী, কাতিহার হাটসহ জেলার প্রায় সব পশুহাট সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে এসব হাটে পুরোপুরি মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি।

গত বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জ আর শুক্রবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাইরীহাট এবং ঠাকুরগাঁওয়ে খোচাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ হাটে ঘুরে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এ জেলায় এ বছর ভারতীয় গরুর আমদানি কম। হাটবাজার দখল করে রেখেছে দেশীয় গরু। হাটে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন জাতের দেশি ও বিদেশি গরু আমদানি করা হয়। বাজারে বড় লাল গরু (লালু) বিক্রেতারা হাঁকছেন ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার। এছাড়া বাজারে সব ধরনের ছোট-বড় গরু ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। ছোট আকারের গরুর দাম ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। আর বড় আকারের গরু দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সদর উপজেলার ব্যবসায়ী হায়দার আলী জানান, এ বছর সরকারি নিষেধজ্ঞা থাকায় ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীরা মোটেও সুবিধা করতে পারেনি। তিনি জানান, ‘ঈদ ঘিরে গত বছর ভারতীয় গরুর অনেক চাহিদা থাকলেও এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এবার বাজারে ভারতীয় গরুর চাহিদা অনেক কমে গেছে। ক্রেতারা দেশীয় গরু খুঁজছেন সবার আগে। কিন্তু বর্তমানে দেশে বন্যার প্রভাবে বাইরের ক্রেতা না আশায় একটু দাম কম। গরু বেশি দামে কেনা থাকায় লোকসানের মধ্যে আছি আমরা।’

নজরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, দেশি গরু কিনতে চান তিনি। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম একটু বেশি। এ বছর ১০০ কেজি ওজনের ১টি গরু কিনতে ৭০ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে, গতবার সেই গরু ছিল ৬০ হাজার টাকা। তবে মাংসের দামের তুলনায় এবার একটু হলেও গরুর দাম কম। আবার ২০০ কেজি ওজনের একটি লাল গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। বাজারে গরুর রং, মাংসের ওজন ও কোরবানি করার উপযোগী ভালো গরুর দাম ও চাহিদা একটু বেশি।

এদিকে কোরবানির উপযোগী ১২-১৪ কেজি ওজনের ১টি ছাগল বিক্রি হয়েছে ১০-১২ হাজার টাকায়। আবার বিক্রেতারা ২০ থেকে ২৫ কেজি ওজনের একটি লাল রাম ছাগলের দাম হাঁকছেন ২৫-৩০ হাজার টাকা।

ঠাকুরগাঁওয়ে সদরের খোচাবাড়ী হাটে কথা হয় বিক্রেতা আইয়ুব আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কড়া নজরদারির কারণে ভারতীয় গরু তেমন আসতে পারেনি। এতে অনেক খুশি খামারিরা। কিন্তু বন্যার প্রভাবে ক্রেতারা ভালো দাম না পাওয়ায় হতাশ তারা।

ঠাকুরগাঁওয়ে খামারিরা জানান, গত বছরের তুলনায় দাম একটু কম। কারণ বর্তমানে দেশে বন্যার প্রভাবে দূর-দূরান্তের ক্রেতা না আশায় একটু দাম কম।

লাহিড়ী হাটের ক্রেতা মো. বদিরুল ইসলাম বলেন, গত হাটে যে গরুর দাম ছিল ৬০ হাজার, সেই গরু আজ (শুক্রবার) কম দামে বিক্রি হয়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাংসের তুলনায় হাটে গরুর দাম একটু কম।

ঠাকুরগাঁও জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঠাকুরগাঁও জেলায় পারিবারিক খামার মিলেও গরুর খামার সংখ্যা ১৭ হাজার ২৫০টি। এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৯৬ হাজার ১০৯টি। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৬৩ হাজার। এবার জেলায় চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলাই পশু বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ঈদে ক্রেতারা যাতে সুস্থ-সবল গরু পেতে পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই অনেক আগে থেকেই খামারিদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া কোরবানির হাটগুলোয় তাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোরবানি উপলক্ষে  দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পশুহাটগুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। হাটবাজারসহ সর্বত্র পুলিশের ব্যাপক নজরদারি রয়েছে।