সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট

মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। তবে এসব হাটে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়ানক আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন। এছাড়া লাম্পি স্কিন ভাইরাস ঠাকুরগাঁও জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নি¤œ আয়ের মানুষ। করোনার মতো গরুর এ রোগটি প্রতিহত করার জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, হাটগুলোয় বিক্রির জন্য নিয়ে আসা গরুগুলো কোনোরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া চলছে ক্রয়-বিক্রয়। বাজারগুলোয় নেই কোনো পশু রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা। নেই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডাক্তার বা টিম। জেলায় লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে হাজার হাজার গরু। মারাও গেছে অর্ধশতাধিক।

গরুর ক্রেতারা বলছেন, হাটে গরুগুলো কোনোরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া প্রবেশ করানো হচ্ছে। আর মাস্ক পরা বা সামাজিক দূরত্ব নানা অজুহাতে মানছেন না অনেকে। ফলে করোনাভাইরাস ও গরুর লাম্পি স্কিন রোগের কারণে অনেক ক্রেতা কমে গেছে। অনেকে গরু না কিনেই ফিরে আসছেন।

মাস্ক বা সামাজিক দূরত্ব না মানা প্রসঙ্গে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বলেন, জনগণ যদি নিজেরাই সচেতন না হন তাহলে জনপ্রতিনিধির  একার পক্ষে সচেতন করা সম্ভব নয়।

জানা গেছে, প্রখর রোদ ও বৃষ্টির মধ্যেই কোরবানির পশু কেনাবেচা চলছে। এবার শুধু হাটে নয়, বেচাকেনা চলছে গ্রামের রাস্তা, কৃষকের বাড়ি ও খামারেও।  তবে গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা কম বলে জানা গেছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাইরী হাট এবং ঠাকুরগাঁওয়ের খোচাবাড়ি ও নেকমরদ হাট  হাটে ঘুরে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এ জেলায় এ বছর ভারতীয় গরুর আমদানি নেই বললেই চলে। হাটবাজার দখল করে রেখেছে দেশীয় গরু। বাজারে বড় লাল গরু বিক্রেতারা হাঁকছেন এক লাখ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার। এছাড়া সর্বনি¤œ ৩০ হাজার টাকাতেও মিলছে গরু।

সদর উপজেলার খামারি ব্যবসায়ী সাদেকুল ইসলাম জানান, ঈদকে ঘিরে গত বছর ভারতীয় গরুর অনেক চাহিদা থাকলেও এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এবার বাজারে ভারতীয় গরুর চাহিদা অনেক কমে গেছে। ক্রেতারা দেশীয় গরু খুঁজছেন সবার আগে।

নজরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, দেশি গরু কিনতে চাই। গত বছরের তুলনায় এবার দাম একটু কম। গত বছর যে ১০০ কেজি ওজনের গরু কিনতে ৫২ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে, এবার সেই গরু পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ হাজারে। আর কোরবানি করার উপযোগী ১২-১৪ কেজি ওজনের একটি খাসি বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ হাজার টাকায়।

ঠাকুরগাঁওয়ে সদরের খোচাবাড়ি হাটে কথা হয় বিক্রেতা আবদুল করিমের সঙ্গে। তিনি  জানান, সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কড়া নজরদারির কারণে ভারতীয় গরু তেমন আসতে পারেনি। বিভিন্ন মাধ্যমে কিছু ভারতীয় গরু এলেও আগের তুলনায় অনেক কম। এতে অনেক খুশি খামারিরা। কিন্তু করোনাভাইরাস ও গরুর লাম্পি স্কিন রোগের  কারণে  দাম একটু  কম। গরু বিক্রি করে তাদের লোকসান হচ্ছে বলে জানান।

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ঠাকুরগাঁও জেলায় গরুর খামার ১১ হাজার ৭৮২টি। আর গরুর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার ৪৫৯টি। ঈদে ক্রেতারা যাতে সুস্থ-সবল গরু পেতে পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই অনেক আগে থেকেই খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কোরবানির ১৫ দিন আগে থেকে  হাটগুলোতে তাদের মেডিকেল টিম কাজ করবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, লাম্পি স্কিন রোগটি নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। এ রোগ থেকে গরু সুস্থ হলে মাংস খাওয়া যাবে। কারণ লাম্পি স্কিন ভাইরাসটি ৬০-৬৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে না। আমরা মাংস রান্না করে খাই ১৬০-১৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। ভাইরাসটির জন্য কোরবানির ঈদে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, ভালো গরুগুলোকে আক্রান্ত গরু থেকে আলাদা রাখতে হবে। মশা-মাছি সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। জেলায় পর্যাপ্ত ভেটেরিনারি চিকিৎসক না থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। 

ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, অর্থনীতির চাকা সচল রাখার হাটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..