কৃষি কৃষ্টি

ঠাকুরগাঁওয়ে পাট চাষে আশার আলো দেখছেন কৃষক

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে ধান, গম, ভুট্টা ও আখসহ অন্য ফসলের পাশাপাশি সোনালি আঁশ খ্যাত পাটেরও ভালো আবাদ হয়েছে। চলতি বছর জেলায় পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

বলা যায়, সোনালি আঁশে কৃষকের সুদিন ফিরেছে। পাট ওঠার শুরুর দিকে ১৮০০ থেকে ২৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। এমন দাম এই প্রথম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাটের দাম বেশি পাওয়ায় আনন্দিত কৃষকসহ ব্যবসায়ীরা।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর ৩০০ হেক্টরের বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবার এখানে পাঁচ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখানে আবাদ হয়েছে ছয় হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর পাঁচ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল।

বিগত সময়ে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় জেলায় ধীরে ধীরে কমে যায় পাট চাষ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আশার পর থেকে পাটের সুদিন ফিরে আসে। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় পাট চাষে আবার আগ্রহী হয়েছেন কৃষক।

সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের পাট চাষি তসলিম হোসেন বলেন, আমি দুই যুগ ধরে পাট চাষ করছি। অন্য ফসলের তুলনায় পাটের রোগবালাই কম হওয়ায় এতে কীটনাশক ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না।

এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে পাট চাষ করতে খরচ হয় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ করে পাট উৎপাদন হয়।

একই গ্রামের দুলাল মনসুর আলীসহ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা কয়েক যুগ ধরে পাট চাষ করছেন। এই এলাকায় একটি জুট মিল (করিম জুট মিল) ছিল। কয়েক বছর ধরে পাটের ন্যায্য দাম থেকে তারা বঞ্চিত ছিলেন। সেই দিন আর নেই। এখানে পাটের বাজারে সুদিন ফিরে এসেছে। এখানে সুপ্রিয় জুট মিল নামে একটি বড় জুট কারাখানা নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, গত বছর দাম বেশি পাওয়ায় এ বছর পাটচাষে ঝুঁকছেন কৃষক।  আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ অঞ্চলে পাটের ফলন ভালো হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে গিয়ে পাট তাদের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..