প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না চাষিরা। প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী বর্ষার এ সময়টায় ছোট ছোট খাল-বিল, পুকুর ও নদী-নালায় পানি থাকে ভরপুর। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে পানি পাচ্ছেন না কৃষক। এতে কাঁচা পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরেছেন পাটচাষিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার জামালপুর, রহিমানপুর, আউলিয়াপুর, আখানগর, গড়েয়া, রুহিয়া, চিলারংসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ পাটচাষি প্রয়োজনীয় পানির অভাবে ঠিকমতো পাট জাগ দিতে পারছেন না। আবার অনেকে ছোটখাটো খালবিল ও পুকুরে পানি ঢুকিয়ে পাট জাগ দেয়ার চেষ্টা করলেও পানি দু-এক দিনের বেশি থাকছে না, শুকিয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও জেলার প্রায় সর্বত্রই। এ অবস্থাতে কিছু পাট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের আরাজী ঝাড়গাঁও গ্রামের আজাদ জানান, দুই বিঘা (১০০ শতক) জমিতে প্রতি বছরের মতো এ বছরও পাট চাষ করেছেন। পাট জমি থেকে কেটে রাস্তার ধারে স্তূপ করে রেখেছেন। তবে পানি কম থাকায় কীভাবে তা জাগ দেবেন, সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রত্যেক বছর এ সময়টায় বর্ষার পানিতে খালবিল সব পানিতে ভরা থাকে। তবে এ বছর বৃষ্টি হচ্ছে না বললেই চলে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ী মুন্সিপাড়া গ্রামের কৃষক মোমিনুল ইসলাম বলেন, গম কাটার সেই জমিতে পাটের আবাদ করেছি। কাঁচা পাট প্রক্রিয়ার জন্য প্রধান উৎস হচ্ছে পানি। সাধারণত খালের পানিতে অথবা পুকুরের পানিতে পাট ডুবিয়ে রাখতে হয় ১২-১৫ দিন বা তার থেকে কয়েক দিন বেশি। কিন্তু এ বছর বৃষ্টির পানি প্রয়োজনমতো না হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছি। 

সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের সেন্টারহাট গ্রামের পাটচাষী মো. সোহেল রানা বলেন, পাট চাষ করতে অনেক খরচ হয়েছে। প্রয়োজনীয় পানির অভাবে পাট নষ্ট হওয়ায় লোকসানে পড়তে হবে। প্রয়োজনমতো বর্ষার পানি না পেলে গভীর নলকূপগুলো কয়েক দিনের জন্য ফ্রি করে দেয়া হলে আমাদের মতো কৃষকদের উপকার হতো।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ৭২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ছয় হাজার ২৮০ হেক্টর জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬১ হাজার ১৫ মেট্রিক টন, যা গত বছরে আবাদ হয়েছিল ছয় হাজার ৮১৭ হেক্টর জমি। এতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ছয় হাজার ২৯২ হেক্টর জমি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৯ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, পাট চাষের জন্য ঠাকুরগাঁও একটি আদর্শ জেলা। জেলায় পাটের আবাদ বেড়েছে। উৎপাদনও ভালো হয়েছে। তবে কিছু উঁচু এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় পাটচাষিরা কিছুটা সমস্যায় পড়ছেন। আশা করি বৃষ্টি হলে চাষিদের পাট পচানোর কাজটি সহজ হবে এবং তাদের সমস্যার সমাধান হবে।

এছাড়া কৃষকেরা তাদের বাড়ির আশপাশের ছোট ডোবা ও খালবিলে বৃষ্টি বা অন্যান্য উপায়ে পানি সংরক্ষণ করে পাট জাগ দিলে উপকৃত হবেন। এ বছরও চাষিরা পাটের ভালো দাম পাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।