সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে আগাম জাতের ধান চাষ

ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: কৃষিসমৃদ্ধ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আগাম জাতের আমন ধান চাষ। এ জাতের ধান ও আলু করে পরে গম, বোরো ও অন্য আবাদও করা যায়। মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে এ ধান কেটে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে জানা গেছে। আবাদকৃত জমির ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ আক্রমণও কম।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কার্তিক মাসের শুরুতে ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হয়েছে আগাম ধান কাটা। সাধারণত অগ্রহায়ণে আমন ধান কৃষকের ঘরে ওঠে। কিন্তু প্রতিবারের ন্যায় এবারও অনেক কৃষক আগাম জাতের আমন ধান আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে সেসব ক্ষেতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। পোকার আক্রমণ আর নানা রোগবালাইয়ের পরও এবার আমনের বাম্পার ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা।

বর্তমানে ধানের মূল্য বেশি থাকায় লাভবান হওয়ার আশায় মুখ ভরা হাসি নিয়ে আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ জেলার কৃষকরা। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আমন আবাদের  লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় এক লাখ ৩৬ হাজার ৮৮৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার ৮৫ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।

এরমধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় আমন আবাদ হয়েছে ৫১ হাজার ৫০৫ হেক্টর, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ২৩ হাজার ১৮০ হেক্টর, রানীসংকৈল উপজেলায় ২১ হাজার ৪৫০  হেক্টর, পীরগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর, হরিপুর উপজেলায় ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার বিভিন্ন আগাম জাতের আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকালের ধান বিনা-৭, ব্রি ধান-৩৩ ও বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের চাষ হয়েছে মোট আবাদের শতকরা ১০ ভাগ অর্থাৎ ১৩ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলার হাট গ্রামের কৃষক বদিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ মৌসুমে আট বিঘা জমিতে বিনা-৭ জাতের ধানের চাষ করেছি। বিঘায় প্রতি ২০ থেকে ২২ মণ ফলন হচ্ছে। আরও ধান কর্তন চলছে। গত বছরও একই জমিতে একই জাতের ধানের চাষ করে ফলন কম পেয়ে কম দামে বিক্রি করেছিলাম। এ বছর ফলন কিছুটা বেশি, দামও বেশি। বাজারে এবার আগাম জাতের প্রতি বস্তা ধান ১৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি।’ ধান কেটে আলু রোপণ করবেন বলেও জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফতাব হোসেন বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম বেশি।’ কৃষকরা যদি দেরিতে ধান বিক্রি করে তাহলে আরও ভালো দাম পাবেন বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..