সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে বিল-জলাশয়ে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও

হেমন্তেই ঠাকুরগাঁওয়ে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি। কিন্তু সদর উপজেলার রহিমানপুর বিলে ফাঁদ পেতে প্রকাশ্যে চলছে পাখি শিকার।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, পাখি নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সচেতনতার অভাবে সদরের রহিমানপুর বিলে খাবারের সন্ধানে ছুটে আসা নানা প্রজাতির পাখি ধরা পড়ছে শিকারিদের ফাঁদে। এসব পাখি ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাটবাজারে। ফলে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

ঠাকুরগাঁওয়ের বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে পানি কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে খাল-বিলে রয়েছে রোপা আমন ধান। এ সময় মাছ ও ধান খাওয়ার লোভেই নানা প্রজাতির পরিযায়ী ও দেশীয় পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে বিল-জলাশয়ে আসে।

রহিমানপুর বিলে সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, তিনজন পাখি শিকারি প্রকাশ্যে ফাঁদ পেতে অর্ধশতাধিক বক ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা জানান, শীতে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করেন।

এ প্রসঙ্গে রহিমানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান একরামুল হোসেন জানান, আশির দশক পর্যন্ত মাছ আর পাখির আশ্রয়কেন্দ্র ছিল রহিমানপুর বিল। এখন তা অতীত। কারণ বিল এখন পুকুর হয়ে গেছে। কমেছে দেশি মাছের উৎপাদন ও পাখির আনাগোনা। তাছাড়া পাখিরা মাছ নষ্ট করছে বলে পুকুরের মালিকরা পাখি শিকারিদের নিষেধ করেন না।

বিলের পাশের রায়পুর এলাকার কৃষক নাজরুলুল ইসলাম জানান, একশ্রেণির লোভী মানুষ রহিমানপুর বিল থেকে নানা পন্থায় পাখি শিকার করে স্থানীয় হাটবাজারে ফেরি করে বিক্রি করছেন। রাতের শেষ প্রহর থেকে ভোর পর্যন্ত তারা পাখি শিকার করে থাকেন। আমাদের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য পাখি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। পাখি নিধন রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বেশি প্রয়োজন।

ঠাকুরগাঁও বন কর্মকর্তা হরিপদ রায় জানান, লোকবল সংকটের কারণে তারা সব দিকে নজর দিতে পারেন না। তাছাড়া সরকারিভাবে পরিবহন সুবিধাও নেই। তারপরও সতর্ক রয়েছেন তারা।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পাখি শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত অভিযান চলছে। কোনো ব্যক্তি যাতে পাখি শিকার করে হাটবাজারে বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

সর্বশেষ..