সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে আশ্বিনেই শীতের বার্তা

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: হিমালয়ের কোল ঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে ভোরবেলা কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছর অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহে এ জেলায় শীতের আগমন ঘটলেও এবার আশ্বিন মাসের শেষে শুরু হয়েছে শীত। ভোরে শরীরে জড়িয়ে নিতে হচ্ছে কাঁথা-কম্বল।
গত রোববার থেকে ভোরে দেখা গেছে হালকা কুয়াশায় ঢেকে গেছে রাস্তাঘাট। দূরপাল্লার বাস-ট্রাকগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেকেই হালকা গরম কাপড় গায়ে দিয়ে নিজ নিজ কাজে বের হন।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে এ বছর দ্রুত শীত অনুভব হচ্ছে। দিনেরবেলা বেশ গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাতভর হালকা বৃষ্টির মতো টুপটুপ করে কুয়াশা ঝরতে থাকে। বিশেষ করে ধানের শীষে কুয়াশা বিন্দু বিন্দু জমতে দেখা যায়। সকালে যারা ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটাচলা করেন, কুয়াশার কারণে তাদের কাপড় ভিজে যায়।
চা বিক্রেতা কুদরত আলী জানান, দুদিন থেকে ভোরবেলা দোকানে আসার সময় শীত অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে হালকা গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে দোকানে আসছেন তিনি। সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের বাসচালক আবদুর রহমান জানান, গত বছর এমন সময়ে কোনো কুয়াশা লক্ষ করা যায়নি। এ বছর দুদিন ধরে সকালে বাস নিয়ে বের হওয়ার সময় হেডলাইড জ্বালিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। তাছাড়া হালকা বাতাসের কারণে ঠাণ্ডাও অনুভূত হচ্ছে।
সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রমের সবজি চাষি আবুল হোসেন জানান, হালকা শীতের কারণে ফসলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস আক্রমণ শুরু করেছে। এতে ফসলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।
তবে শীতের আগমন ঘটলেও ঠাকুরগাঁওয়ে লেপ-তোশক ও কাপড়ের দোকানগুলোয় এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। গরম কাপড়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, লেপ-তোশক বানানোর কাজ শুরু করেছেন তারা।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন জানান, হালকা শীতের কারণে বিভিন্ন ফসলে রোগ-বালাই দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তারাও ফসল সুরক্ষায় কৃষককে পরামর্শ দিচ্ছেন।

সর্বশেষ..