সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে কোরবানির পশু বেচাকেনা চলছে সড়কেও

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। সরবরাহ বেশি হওয়ায় হাটগুলোতে পশু রাখার জায়গাই পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু হাটে নয় বেচাকেনা চলছে গ্রামের রাস্তা, কৃষকের বাড়ি ও খামারেও। তবে গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা রেশি বলে জানা গেছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাইরী হাট এবং সদরের মাদারগঞ্জ ও খোচাবাড়ি হাট ঘুরে দেখা যায়, এ বছর ভারতীয় গরুর আমদানি অনেক কমেছে। হাটবাজার দখল করে রেখেছে দেশীয় গরু। হাটে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন জাতের গরু উঠেছে। বাজরে বড় গরু ব্রিক্রেতারা দাম হাঁকছেন এক লাখ ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া ছোট বড় গরুর দাম দাম ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।
সদর উপজেলার খামার ব্যবসায়ী সাদেকুল ইসলাম জানান, ঈদ ঘিরে গত বছর ভারতীয় গরর অনেক চাহিদা থাকলেও এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এবার বাজারে ভারতীয় গরুর চাহিদা অনেক কমে গেছে। ক্রেতারা দেশীয় গরু খুঁজছেন সবার আগে
রমজান আলী নামে এক ক্রেতা জানান, দেশি গরু কিনতে চান। গত বছরের তুলনায় এবার গরর দাম একটু বেশি। গত বছর ১০০ কেজি ওজনের একটি গরু কিনতে ৪৫ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে, এবার সেই গরু কিনতে হচ্ছে ৫০-৫২ হাজার টাকায়। বাজারে গরুর রং, ওজন ও কোরবানি করার উপযোগী ভালো গরুর দাম ও চাহিদা একটু বেশি। কোরবানি করার উপযোগী ১২-১৪ কেজি ওজনের একটি খাশি বিক্রি হচ্ছে ১০-১১ হাজার টাকায়। আবার বিক্রেতারা ২০ থেকে ২৫ কেজি ওজনে একটি লাল রাম ছাগলের দাম হাঁকছেন ২৫-২৭ হাজার টাকা।
ঠাকুরগাঁও সদরের খোচাবাড়ি হাটে বিক্রেতা আবদুল করিম জানান, সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কড়া নজরদারির কারণে ভারতীয় গরু তেমন আসতে পারেনি। বিভিন্ন মাধ্যমে কিছু ভারতীয় গরু আসলেও আগের তুলনায় অনেক কম। এতে অনেক খুশি খামারিরা।
ঠাকুরগাঁওয়ের খামারিরা জানান, গত বছরের তুলনায় দাম খুব বেশি নয়। গরু বিক্রি করে তার সীমিত লাভ করছেন। যা সামান্য লাভ হচ্ছে, এতেই তারা খুশি। ভবিষ্যতে গরু পালন আরও বেড়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খামারিরা। তারা মনে করছেন ভারতীয় গরু না আসলে ও দেশের বাজারে খুব সংকট তৈরি হবে না, বরং দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হবে বাংলাদেশ।
ঠাকুরগাঁও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঈদে ক্রেতারা যাতে সুস্থ সবল গরু কিনতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রেখেই অনেক আগে থেকেই খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। শান্তি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তত রয়েছে। হাটবাজারসহ সর্বত্র পুলিশের ব্যাপক নজরদারি রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..