সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র খরায় আমন ক্ষেত চৌচির

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে ধানক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। শিগগির বৃষ্টি না হলে আমন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।
ভর বর্ষা মৌসুম আষাঢ়, শ্রাবণে ঠাকুরগাঁওয়ে বৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। এদিকে চারা পুষ্ট হওয়ায় ও রোপণের সময় পেরিয়ে যেতে থাকায় কৃষক সেচ দিয়ে রোপণ করেন। সে সঙ্গে আশায় থাকেন বৃষ্টির। কিন্তু ভাদ্র মাসে আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও নেই বৃষ্টি। ফলে মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পানির অভাবে আমন ক্ষেত বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় খরার কারণে জমিতে আগাছা ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। শ্যালো মেশিন ও গভীর নলকূপ দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। তবে সামর্থ্যবান কৃষক সেচ দিতে পারলেও অনেকেই তা পারছেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯২৫ হেক্টর। এর মধ্যে সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৫১ হাজার ৫১০ হেক্টর, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ২২ হাজার ৮৯৫ হেক্টর, রানীশংকৈলে ২১ হাজার ৪৫০ হেক্টর, পীরগঞ্জে ২৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর এবং হরিপুর উপজেলায় আমন ধান আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, চাষ করা জমি থেকে প্রায় তিন লাখ ৫৮৮ টন চাল উৎপাদন হবে। যা ধানে চার লাখ ৬২ হাজার ৪৪৩ টন। হিসাব অনুযায়ী প্রতি একরে ধান উৎপাদন হওয়ার কথা ৪৫ মণ।
সদরের শুকানিপাড়া গ্রামের কৃষক মোকতার হোসেন জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছেন। কিন্তু এ বছর ঠিকমতো বৃষ্টি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। পানির অভাবে মাঠের ধানগাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকে অধিক পয়সা ব্যয় করে সেচ দিচ্ছেন। খরার কারণে জমিতে আগাছা ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।
সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ছয় বিঘা জমিতে স্বর্ণা জাতের ধানের চাষ করেছেন। এরই মধ্যে আগাছা পরিষ্কার ও এক দফা সার-কীটনাশক দিয়েছেন। ধানগাছগুলোও তরতর করে বেড়ে উঠছিল। আশা ছিল এক বিঘায় ২৮-৩০ মণ ধান পাবেন। কিন্তু পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে। ধানগাছগুলো বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে কোনোরকমে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, এবার ধানক্ষেত দেখে কৃষকের পাশাপাশি তারাও খুব খুশি ছিলেন। আশা করেছিলেন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হবে। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে কিছুটা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবার জুন মাসে ৯৬ মিলিমিটার, জুলাইয়ে ১৭১ মিলিমিটার ও আগস্টে ১৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টি রোপা আমন চাষের জন্য খুবই সামান্য।
ঠাকুরগাঁও কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আফতাব হোসেন জানান, ধানগাছে যখন মোচা (থোড়) হতে থাকে, তখন পানি কম হলে ফলন কমে যাবে। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় পানির খুবই সমস্যা হচ্ছে। উঁচু জমিতে যারা ধান চাষ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে একটু বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে এখনও তারা আশাবাদী। কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি হলে সব সমস্যার সমাধান হবে।

সর্বশেষ..