পত্রিকা সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে সূর্যের আলোনির্ভর সেচযন্ত্র ব্যবহারে উৎপাদন খরচ কমছে

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সূর্যের আলোনির্ভর ভ্রাম্যমাণ সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের সলেমান আলী। এতে চলতি বোরো মৌসুমে ডিজেলের দাম বাড়া আর নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তা কেটে যাচ্ছে। এ সেচযন্ত্র ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচও কমবে কৃষকদের।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার মোলানী গ্রামের সলেমান আলী এক সময় আইপিএস তৈরি করতেন। সৌরবিদ্যুৎ নির্ভর সেচযন্ত্র চালুর পর থেকে এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি দু’বছর পরীক্ষামূলকভাবে জমিতে সেচ দিয়ে সফলতা পেয়েছেন তিনি। কৃষকের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনতে তিনি তৈরি করেন সৌর সেচযন্ত্র।

উদ্ভাবক সলেমান আলী জানান, এ যন্ত্র দিয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জমিতে সেচ দেয়া যায়। সূর্য্যরে তাপ যতই বাড়ে পানির তীব্রতা ততই বাড়ে। দুই হাজার ৫০০ ওয়াডের সৌর প্যানেল দিয়ে মিনিটে ৭০০ লিটার পানি উঠছে এ পাম্প থেকে। বিভিন্ন জায়গা নিয়ে সেচ দেয়া সম্ভব এ যন্ত্র দিয়ে। বহনযোগ্য বলে সেচ দেয়া যায় ঘুরে ঘুরে। মোবাইলে ফোনে ডাক পেলেই তিনি ভ্রাম্যমাণ সোলার পাম্প নিয়ে ছুটে যান কৃষকদের দোরগোড়ায়।

এবার তার দুটি ভ্রাম্যমাণ সেচ পাম্প দিয়ে ২০ একর জমিতে সেচ দিচ্ছেন এলাকার বোরো ধানক্ষেতে। আর নিজের বাড়িতে সোলার বিদ্যুৎ দিয়ে চালাচ্ছেন মাছের পোনা উৎপাদন। এ যন্ত্র দিয়ে মাছ চাষে পুকুরে পানি দিচ্ছেন তিনি।

আশেপাশের এলাকার কৃষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে প্রতি একরে সেচ দিতে খরচ হয় আট হাজার টাকা। তাও আবার বিদ্যুতের লোডশেডিং ও শ্যালো মেশিনের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এতে কখন জমি শুকিয়ে ফেটে যায়, কখনও বা বিবর্ণ হয় ধানের চারা। সে তুলনায় সলেমানের এ সেচযন্ত্র দিয়ে পানি দিতে কৃষকদের খরচ পড়ছে মাত্র চার হাজার টাকা। এতে সেচ খরচ সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানান তারা।

মোলানী, ভেলাজানের কৃষক আমিরুল ইসলাম, মো. জলিল হোসেন, ইদ্রিস আলী ও শাহীনুর আলম জানান, সলেমান আলীর সেচযন্ত্রে সুফল পাচ্ছেন এলাকার অনেকেই। বোরোসহ বিভিন্ন ফসলে পানি নিতে পারছেন ইচ্ছেমতো। তাই গতবারের তুলনায় এবারও ফলন বেশি পাওয়ার আশা করছেন এই কৃষকরা।

ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, চলতি বছর জেলায় এ পর্যন্ত ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এ আবাদ এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তি সদর উপজেলা ছাড়াও আরও অন্য উপজেলাগুলোতে সেচ সুবিধা নিচ্ছেন কৃষকরা। এতে কৃষকদের ফসল উৎপাদন খরচও কমেছে।

তিনি আরও জানান, সৌর বিদ্যুতের উদ্ভাবিত এ পাম্প ছড়িয়ে দিলে কৃষকের কমে আসবে উৎপাদন খরচ, বাড়বে ফসল উৎপাদন। তাই সহজ শর্তে ঋণ পেলে এই প্রযুক্তির সেচ পাম্প নিতে আগ্রহী এলাকার কৃষকরা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..