প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল: শিশুদের মেঝেতে রেখেই নিউমোনিয়ার চিকিৎসা

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র শীতে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ছয় দিনে এ জেলায় তিন শতাধিক শিশু ও বৃদ্ধ ঠাণ্ডাজনিত রোগে হাসপাতাল- ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার পাঁচগুণের বেশি শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। শয্যা কম থাকায় হাসপাতাল ওয়ার্ডের মেঝেতে রেখে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খবর রাইজিংবিডি।

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ১৮ শয্যার শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে সোমবার রাত পর্যন্ত ১৩০ শিশু ভর্তি ছিল। এসব শিশুর বেশিরভাগই ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত। গতকাল দুপুরে ৬০টি শিশুকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আরও ৩২টি নতুন শিশু ভর্তি হয়। গতকাল দুপুর পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে ১০১ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭৫ শিশু ডায়রিয়া ও ২৬ শিশু শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত। শয্যা সংকটের কারণে বেশিরভাগ শিশুকে ওয়ার্ডের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বারান্দায় বিছানা পেতে শিশুর চিকিৎসা করাচ্ছেন অনেক অভিভাবক।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় বিছানা পেতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আট মাসের শিশু শাহিনের চিকিৎসা করাচ্ছিলেন সদর উপজেলার নারগুন গ্রামের রহিমা বেগম। তিনি জানান, গত শুক্রবার তার নাতনির বমি শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে হাসপাতালে নেন। কিন্তু বেড না পেয়ে মেঝেতে কম্বল পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শাহিনের অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর গ্রাম থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসা নিতে আসা দিরেন রায় জানান, তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৯ মাসের ছেলেকে শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। দুদিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রাতে ঠাণ্ডা বাতাস বারান্দার রোগীদের কাবু করে দেয়। সদর উপজেলার গড়েয়া এলাকা থেকে আসা মোকলেসা খাতুন জানান, শিশুটিকে ভর্তি করার পর থেকে দেখি একটা বেডে তিনজন করে, আর মেঝেতেও কোনো জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

নবজাতক ও শিশু বিভাগের চিকিৎসক ড. শাহজাহান নেওয়াজ জানান, শয্যা না থাকায় কনকনে শীতের মধ্যেই ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগে আক্রান্ত শিশুদের ওয়ার্ডের মেঝে এবং বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও ঠাকুরগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল কবির জানান, শুধু শিশু ওয়ার্ডেই নয়, সব ওয়ার্ডেই প্রতিদিন ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। স্বল্প জনবল দিয়েই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।