ঠাণ্ডা-জ্বরেও থাকুন সুরক্ষিত

951530222

কভিড মহামারির বিরূপ প্রভাব খানিকটা কাটিয়ে উঠে আমরা যখন কিছুটা নিশ্চিন্ত সময় পার করছি, তখনই চারদিকে বাড়ছে জ্বর-কাশি-ঠাণ্ডায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে এমন সমস্যা। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়টায় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় বলে একে বলা হয় সিজনাল ফ্লু। জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা প্রভৃতিই এর লক্ষণ। গত বছরের তুলনায় এবার ফ্লু ও এ-সংক্রান্ত নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতার রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। মৌসুম বদলের এই সময়, জ্বর-ঠাণ্ডা লাগতে পারে। তবে হেলাফেলা করা যাবে না।

সতর্ক থাকুন: সিজনাল ফ্লুর লক্ষণগুলো অনেকাংশে কভিড সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণের মতোই। করোনা সংক্রমণ কমলেও তা একেবারে নির্মূল হয়ে যায়নি। কিছু মৃত্যুসংবাদ এখনও পাওয়া যাচ্ছে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক থাকা ভালো। করোনা সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা নির্ণয় করার জন্য করোনার র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা তো আছেই, অন্য পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে। তা ছাড়া মৌসুম এখন ডেঙ্গু জ্বরের। সাধারণ ঠাণ্ডা-জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলেও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।

আতঙ্ক নয়, সচেতনতা: সিজনাল ফ্লু নিতান্তই সাধারণ সমস্যা। ফ্লুর ব্যবস্থাপনা হওয়া উচিত উপসর্গভিত্তিক। প্রাথমিকভাবে বাড়িতেই খুব সহজ উপায়ে এসব উপসর্গের উপশম করা সম্ভব। ফ্লুর লক্ষণ দেখা দিলে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে প্রচুর পরিমাণে। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার (টক ফল) গ্রহণ করতে হবে। পানি ও ভিটামিন সি দুটিই একসঙ্গে গ্রহণ করতে বারবার লেবু-পানি পান করা যায়। কাশি হলে উষ্ণ পানীয় গ্রহণে আরাম মেলে, যেমন লেবু-আদা চা, গ্রিন টি বা গরম স্যুপ। উত্তাপে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায় বলে উষ্ণ পানীয় থেকে ভিটামিন সি পাওয়া মুশকিল। এ ছাড়া হালকা উষ্ণ পানি দিয়ে গড়গড়া করা যেতে পারে। জ্বর হলে গোসল করতে কোনো বিধিনিষেধ নেই। বিশ্রাম নিন।

প্রয়োজনে ওষুধ সেবন: কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধ সেবন করার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু নিজ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। সাধারণত এটি ভাইরাস জ্বর, তাই অ্যান্টিবায়োটিক দরকার নেই। তবে ফ্লু থেকে কারও কারও নিউমোনিয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথার জন্য প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। সর্দির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে সব ধরনের অ্যান্টিহিস্টামিন সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। তাই শ্বাসতন্ত্রের কোনো সমস্যা থেকে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এরপর এ ধরনের চিকিৎসা নেয়া উচিত। [বাকি অংশ আগামীকাল]

ডা. আবদুস শাকুর খান বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১  জন  

সর্বশেষ..