প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডরিন পাওয়ারের তদন্তের মেয়াদ বাড়লো

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমসের অস্বাভাবিক শেয়ারদর বাড়ার কারণ অনুসন্ধানের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তদন্তের মেয়াদ আরও ২০ কার্যদিবস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকের সমন্বিত মুনাফা ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই হঠাৎ করে ১৭ অক্টোবর থেকে ডরিন পাওয়ারের শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে। আর কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এর কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিএসইসি দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বিএসইসির উপপরিচালক মুসতারি জাহান ও শামসুর রহমানের সমন্বয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তদন্তকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাই তদন্তের প্রয়োজনে কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদন

দাখিলের জন্য আরও সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি ডরিন পাওয়ারের শেয়ারদর বাড়ার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরও ২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অক্টোবরে মাত্র আট কর্মদিবসে এই শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। ১৬ অক্টোবর কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সায়। এর আট দিনের মাথায় শেয়ারটির সর্বশেষ লেনদেন হয় ১২৩ টাকা ৭০ পয়সায়। দিনের লেনদেনের একপর্যায়ে এটি ১৩০ টাকা ৭০ পয়সায় উঠে যায়।

৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ বোনাস ও ১০ শতাংশ নগদ। এদিকে কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০১৬) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা ২২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩৬ পয়সা। এই হিসাবে কোম্পানির ইপিএস বেড়েছে ৫১৭ শতাংশ।

ডরিন পাওয়ারের রিজার্ভের পরিমাণ রয়েছে মাত্র ১৫৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণের পরিমাণ ৫৫৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা রিজার্ভের চেয়ে সাড়ে তিনগুণ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণের মধ্যে দীর্ঘয়োদি ঋণ রয়েছে ৩৫৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আর স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে ১৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এদিকে কোম্পানির সম্পদমূল্যের পরিমাণ ২৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পদের চেয়ে ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেশি।