প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডরিন পাওয়ারের দরবৃদ্ধির তদন্তে গড়িমসি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমসের অস্বাভাবিক শেয়ারদর বাড়ার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্তের সময় ফের বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফলে তদন্তে চলছে ধীরগতি। বারবার সময় বাড়িয়ে তদন্তে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ডরিন পাওয়ারের শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়ার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার মেয়াদ আরও ১০ কার্যদিবস বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর তদন্তেও মেয়াদ ২০ কার্যদিবস বাড়ানো হয়েছিল। আর এ-সংক্রান্ত বিষয় উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর থেকে ডরিন পাওয়ারের শেয়ারদর হঠাৎ বাড়তে শুরু করে। কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ খুঁজে বের করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি গত ৩০ অক্টোবর দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন কমিশনের উপপরিচালক মুসতারি জাহান ও শামসুর রহমান। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি ডরিন পাওয়ারের শেয়ারদর বাড়ার কারণ অনুসন্ধান করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময় দ্বিতীয় দফায় ২০ দিন বাড়ায়। তবু প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় এবার তৃতীয়বারের মতো আরও ১০ দিন সময় বাড়িয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারিতে সরকারের উন্নয়ন মেলা শুরু হবে। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অংশগ্রহণ করবে। একই সময়ে বিএসইসির নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কমিশনের সব কর্মকর্তা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ কারণে ডরিন পাওয়ারের তদন্তের ধীরগতি চলছে। তাছাড়া আলোচিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন শেষ করা যেতো।

ডরিন পাওয়ারের লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অক্টোবরে মাত্র ৯ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম  বেড়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। গত ১৬ অক্টোবর কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সায়।  কোম্পানিটির শেয়ারদর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২৭ অক্টোবর দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র ৯ কার্যদিবসে কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে ৫৩ টাকা ৬০ পয়সা বা প্রায় ৭৬ শতাংশ।

৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ বোনাস ও ১০ শতাংশ নগদ। এদিকে কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০১৬)  শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা ২২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩৬ পয়সা। এই হিসাবে কোম্পানির ইপিএস বেড়েছে ৫১৭ শতাংশ।

কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে ৭৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ২০ দশমিক শতাংশ শেয়ার রয়েছে।