Print Date & Time : 11 August 2022 Thursday 11:20 pm

ডলারের বাজার স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নিন

‘ব্যাংকপাড়ায় ডলার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা পাঠকদের বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের মনোযোগ কাড়বে বলেই ধারণা। আমাদের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ না করায় ঋণপত্র (এলসি) খোলায় বড় ধরনের সংকটে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, টাকার বিপরীতে প্রতি ডলারের দর ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এই দরে দেশে একটি ডলারও পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ আন্তঃব্যাংক ডলার বিনিময় দর এখন ৯৪-৯৫ টাকা। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ দরে ডলার কেনাবেচা করছে। যদিও আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হচ্ছে লোক দেখানো ৮৬ টাকা ৭৫ পয়সা বিনিময় হারে। কিন্তু এলসি নিষ্পত্তি হচ্ছে ৯৩ থেকে ৯৬ টাকা হারে। প্রয়োজনীয় ডলার বাজারে না পাওয়ায় অনেকেই সময়মতো এলসি খুলতে পারছে না। বৈদেশিক বাণিজ্যে ‘ডলার’ একটি বড় অনুঘটক। বর্তমানে রপ্তানি বাণিজ্যে ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। আর আমদানি বাণিজ্যে ডলারের দর ৯৬ টাকা। ফলে আমদানি করতে গেলে এলসি খোলার সময় প্রতি ডলারের বিপরীতে অতিরিক্ত ৯ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। রয়েছে এলসি মার্জিনের কড়াকড়ি। অনেক পণ্য আমদানিতে এলসির বিপরীতে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ নগদ অর্থ আগেই জমা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। এত কড়াকড়ির মধ্যে ব্যবসা করা কঠিন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যভেদে দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৩০০ শতাংশ। এ অবস্থায় আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসা করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলারের দর বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ী কিংবা নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, মুনাফা লুটছে ব্যাংক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের দাম বৃদ্ধির মূল কারণÑরপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির হার আমদানির তুলনায় অনেক কম। বিদেশি ঋণ পরিশোধও বেড়েছে। দেশে কয়েকটি বড় প্রকল্প চলমান থাকায় আমদানি বেড়েছে। এতে সরবরাহের তুলনায় বেশি চাহিদা তৈরি হওয়ায় ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে ধারণা। সমস্যা নিরসনে মুদ্রাবাজারের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অংশীজন বিশেষ করে বিএবি, এবিবি, বাফেদাসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় ডলারের বিনিময় মূল্য স্বাভাবিক হবে বলে আমরা মনে করি। বৈদেশিক বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আমদানি যৌক্তিক রাখা গেলে তা অর্জন করা যাবে বৈকি। বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার হয়। আমাদের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) সক্ষমতা বাড়াতে হবে এক্ষেত্রে। প্রায়ই শোনা যায়, আমদানি-রপ্তানিকালে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমেই অর্থের বড় অংশ পাচার হয়। কোনো ফাঁকফোকর গলে কোনো দুষ্টচক্র ডলারের মূল্য বৃদ্ধিতে কারসাজি যেন না করতে পারে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রি করতে না পারে রে লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করতে হবে। সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশিÑতিন ধরনের ব্যাংকের তিন রকম রেট। মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর আরেক রেট। এটাও ডলারের বাজারে অস্থিরতার কারণ। এগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে।