প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডলার সংকট পুঁজি করে পণ্যের দাম বাড়ানো কাম্য নয়

দেশে ব্যাংক খাতে ডলার সংকটে ভোগ্য ও শিল্প পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা সীমিত হয়েছে। এ কারণে রড, সিমেন্ট, টাইলস, আটা-ময়দাসহ ভোগ্য ও শিল্প পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। আমদানি সুবিধা কমে যাওয়াকে অজুহাত দেখিয়ে উৎপাদনকারীরা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

আমদানিকারকরা বলেন, ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন রকমের পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে কঠোর নীতি অবলম্বন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পণ্যের সঠিক দাম যাচাইয়েও কঠোর হয়েছে।

ডলারের বিনিময়মূল্য বৃদ্ধিতে আমদানিনির্ভর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু কতটা বাড়তে পারে! এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি না থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা যথেচ্ছ দাম বাড়িয়ে দেবেন। আমাদের দেশে কোনো দুর্যোগ, মহামারি কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিকে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সুযোগ হিসেবে নেন। 

বৈশ্বিক মহামারি কভিড ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত আখ্যা দিয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক প্রমাণের প্রবণতাও লক্ষণীয়। এভাবে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। সাধারণ মানুষ যে সত্যিই কষ্টে আছে, তা নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে। এ সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বোঝানোর চেষ্টা না করে সমস্যা সমাধানে মনোযোগ বাড়াতে হবে।

অতিরঞ্জন আর অপপ্রচার যেমন কাম্য নয়, তেমনই দায় এড়ানোও দুঃখজনক।  নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে সব মানুষ ভোগান্তিতে পড়লেও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোনো বিলাসপণ্য নয়, কেবল বেঁচে থাকার জন্য  অপরিহার্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাথতে হবে। দাম বৃদ্ধিতে কয়েকটি পক্ষের কারসাজি থাকতে পারে। কেউ তা করে থাকলে সেটি বন্ধ করাও সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, কভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় দারিদ্র্য বেড়েছে। অবশ্য সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কাছে সরকারের সমর্থনে কোনো তথ্য নেই। বরং বিবিএস-ই বলছে, দেশের মানুষের আয় কমেছে, ব্যয় বেড়েছে।

অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি অতি স্বাভাবিক প্রবণতা। ৩৩৪ বছর আগে শায়েস্তা খানের আমলের মতো এখন এক টাকায় আট মণ চাল কেউ প্রত্যাশা করে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের দাম বাড়ে। সেই কতকাল আগের সঙ্গে আমরা তুলনা করতে চাই না। এখানে অনেক বিষয় জড়িত। কিন্তু ওই আমলের মতো আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতার কথা মনে করিয়ে দিতে পারি। দাম বৃদ্ধির মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের মূল্যস্ফীতির হার নিয়েও মতানৈক্য আছে। তা যতই থাকুক, পাশাপাশি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সহনীয় মাত্রায় থাকে। সরকারের উচিত পণ্যের ওপর শুল্ক-কর কমিয়ে, খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি বাড়িয়ে এবং বাজার তদারকি জোরদার করে নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিক রাখা। সাধারণ মানুষের বিড়ম্বনা কমাতে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ করতে হবে। যৌক্তিক দাম নির্ধারণে ট্যারিফ কমিশনকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।