মত-বিশ্লেষণ সুস্বাস্থ্য

ডাচ ডিজিজ কি এবং কেন হয়?

রিয়াজুল হক: বর্তমানে ডাচ ডিজিজ বেশ প্রচলিত একটি কনসেপ্ট। গত শতাব্দিতে নেদারল্যান্ডস বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পায়। এর পরেই তারা অতিরিক্ত গ্যাস রফতানি শুরু হলো। গ্যাস রফতানি মোট রফতানির ৮০ ভাগ হয়ে গেল। দেশের মোট রফতানি আয় অনেক বেড়ে যায়।

এর ফলে, ডাচ মুদ্রার বিনিময় হার মার্কিন ডলারের বিপরীতে বেড়ে গেল। এসময় নেদারল্যান্ডস তার মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখতে পারেনি। পরবর্তীতে যে সমস্যা হলো, ডলারের বিপরীতে ডাচ মুদ্রার মান বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল এবং রফতানির সময় কম মূল্যমান পাচ্ছিল। অর্থাৎ মোট রপ্তানি আয় কমে গিয়েছিল। এখান থেকেই পরবর্তীতে ডাচ ডিজিজ কনসেপ্টটি আসে।

মূলত একটি মাত্র প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অতি নির্ভরতা (৮০ ভাগ বা বেশি) এবং ভবিষ্যতে এই সম্পদের পরিমাণ বা মূল্য হ্রাস পেলে যে আর্থিক মন্দার সৃষ্টি হয়, সেটাকে ডাচ ডিজিজ বলা হয়ে থাকে।

ডাচ জিজিজের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে ভেনিজুয়েলা। ভেনিজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদকারী দেশ এবং উৎপাদিত তেলের প্রায় সবটাই রপ্তানী করে থাকে।

এই দেশটিরও আর্থিক সমস্যার শুরু বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য হ্রাস দিয়েই। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্ব বাজারে তেলের দরপতন শুরু হয় । অথচ ২০০৪ থেকে ২০১৩, এই সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলা ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আহরণ করা দেশগুলোর একটি, যখন তেলের মূল্য বিশ্ব বাজারে অনেক বেশি ছিল।

তেলের মূল্য সব সময় বেশি থাকবে, এটাই যেন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছিল। অধিকাংশই দেশই তেলের বেশি মূল্যের সুবিধাকে কাজে লাগিয়েছিল। কারণ তারা অতিরিক্ত আয় রিজার্ভ হিসেবে রেখে দিয়েছিল।

কিন্তু ভেনিজুয়েলা রিজার্ভের দিকে কোন নজর দেয়নি। তেলের মূল্য কমতে শুরু করার আগে ব্যয় কমানো কী জিনিস, ভেনিজুয়েলা যেন ভুলেই গিয়েছিল। দেশটির অতিরিক্ত ব্যয় সমস্যা বহু পুরনো।

সাধারণত দেখা যায়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে চাকরির সুযোগ তৈরী হয়। কিন্তু ভেনিজুয়েলায় দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কলম্বিয়ার তেল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৯২ শতাংশ, কিন্তু চাকরির হার বেড়েছে ৫ শতাংশ। একই সময়ে ভেনিজুয়েলায় তেল উৎপাদন কমে যাওয়া সত্ত্বেও চাকরি বেড়েছে ২৫৬ শতাংশ। এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, প্রশিক্ষিত কর্মীদের বদলে ‘বিপ্লবীদের’ এই খাতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যারা প্রেসিডেন্টের যেকোনো ইচ্ছা বাস্তবায়নে ব্যাকুল। ফলশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত সেখানে রয়ে গেছে উৎপাদনশীলতার সমস্যা।

বর্তমানে ভেনিজুয়েলা মুদ্রাস্ফীতি, হ্রাসমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাজেট ঘাটতি সমস্যার মধ্যে রয়েছে ।

লেখক-রিয়াজুল হক, অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এবং যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..