ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়

রোগ নির্ণয় করা চিকিৎসায় অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রোগ নির্ণয় করা না গেলে সঠিক চিকিৎসা করা কঠিন। কিছু রোগের লক্ষণ দৃশ্যমান থাকে না। সে ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের (ডায়াগনস্টিক সেন্টার) শরণাপন্ন হতে হয়। আবার বিদেশগামীকেও মেডিকেল টেস্ট করাতে হয়। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ইতিবাচক রিপোর্ট পেলেই বিদেশ যাওয়ার অনুমোদন মেলে। সঠিক রিপোর্ট পেলেই চিকিৎসক যথাযথ চিকিৎসা করতে পারেন। রিপোর্ট সঠিক না হলে চিকিৎসক যেমন চিকিৎসা করতে পারেন না, তেমনই বিদেশগামী ব্যক্তিরও বিদেশ যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যৌন সংসর্গজনিত রোগ (এসটিডি) হলে তো সামাজিকভাবে অপদস্থ হতে হয়। আর্থিক ক্ষতি তো আছেই। যেকোনো বিচারে রোগনির্ণয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। দুঃখজনক সত্য হলো, দেশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুলের কারণে ভুল চিকিৎসায় প্রাণহানির ঘটনা কম নয়। বিদেশগামীরাও হচ্ছেন প্রতারিত, ক্ষতিগ্রস্ত। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এ ধরনের সংবাদ-প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘অ্যালাইড ডায়াগনস্টিকের বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ’ পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব গমনেচ্ছুক ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ মেডিকেল টেস্ট করাতে গেলে তার বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্ট দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির রিপোর্টে এইচআইভি পজিটিভ দেখানো হলে ওই তরুণের মা-বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএসএমএমইউ) ও আইসিডিডিআর,বিতে পরীক্ষা করালে সেখানে এইচআইভি নেগেটিভ আসে। সৌদি আরব গমনেচ্ছুকদের রোগ নির্ণয়ের জন্য দেশটির দূতাবাস অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অ্যালাইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড। অ্যালাইডের করা রিপোর্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সৌদি দূতাবাসে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, ‘এ তরুণ ঝুঁকিপূর্ণ’। অথচ দেশের দুটি নির্ভরযোগ্য ও খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউ ও আইসিডিডিআর,বির রিপোর্টমতে ওই তরুণ ‘এইচআইভি পজিটিভ’ নয়। অর্থাৎ সে এইডসে আক্রান্ত নয়। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এমন ভুল রিপোর্ট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সৌদি দূতাবাস অবশ্যই যোগ্যতা যাছাই করেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে সে দেশগামী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়োগ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ভুক্তভোগী তরুণের পরিবারের সঙ্গে আপসরফায় যেতে চেয়েছে। আমরা মনে করি, এমন দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের দায় কোনোভাবেই এড়ানো যায় না। দেশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ওপর নজরদারি প্রয়োজন। প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মানহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্মকাণ্ড তদারক করতে হবে। কোনো কোনো চিকিৎসক অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। চিকিৎসকদের সহায়তা ছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়।

ভুল হতেই পারে। অ্যালাইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার পরীক্ষার অপেক্ষা না করে ভুল রিপোর্ট মন্ত্রণালয়সহ সৌদি দূতাবাসে জানিয়েছে। এটি ভুল নয়, অপরাধ। আবার টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটমাট করতে চেয়ে দ্বিতীয়বার  অপরাধ করেছে। কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে চাপ সৃষ্টি করবে। এটি সঠিক পন্থা নয়। দায়িত্বহীনদের পক্ষে অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় এবং বিলম্ব হওয়ায় রোগীদের বড় অংশ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শরণাপন্ন হন। তারা বেশি চার্জ নেয়। ভুল রিপোর্টও দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু দায়িত্বশীল নয়, তাই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

সর্বশেষ..